ইডির জালে রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, তোলপাড় রাজনৈতিক মহল

রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড়সড় ধাক্কা। দীর্ঘ টানাপড়েন আর ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) জালে জড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট নেতা সুজিত বসু। ২০২৬ সালের মে মাসের এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারি ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর ১৯(১) ধারা অনুযায়ী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশেষ আদালত ইতিমধ্যে তাঁর ১০ দিনের ইডি হেফাজত মঞ্জুর করেছে।

দুর্নীতির নেপথ্য কারণ ও ইডির চাঞ্চল্যকর দাবি

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পুরনিয়োগ দুর্নীতির জাল অত্যন্ত গভীরে বিস্তৃত এবং সুজিত বসু এই আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী। তদন্তে উঠে এসেছে যে, অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্থাবর সম্পত্তি হাতিয়েছেন এই প্রভাবশালী নেতা। পরবর্তীতে সেই অবৈধ টাকা বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংস্থায় খাটানো হয়েছে, যা স্পষ্টত মানি লন্ডারিংয়ের শামিল।

এই জালিয়াতির মূল সূত্রপাত হয় এর আগে নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত অয়ন শীলের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে। সেখান থেকে কাঁচরাপাড়া, কামারহাটি এবং বিশেষ করে দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক নথি উদ্ধার করে ইডি। তদন্তকারীদের মতে, অয়ন শীলের সংস্থা ‘এবিএস ইনফোজোন প্রাইভেট লিমিটেড’-কে ওএমআর শিট এবং প্রশ্নপত্র ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই চলত নিয়মতান্ত্রিক জালিয়াতি। মজদুর, ঝাড়ুদার থেকে শুরু করে ক্লার্ক— সব স্তরের নিয়োগেই অযোগ্যদের নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকার খেলা চলেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া, বারবার তলব করা সত্ত্বেও হাজিরা এড়ানো এবং জিজ্ঞাসাবাদে বয়ানের অসঙ্গতি ও অসহযোগিতাই সুজিত বসুর গ্রেফতারির পথ ত্বরান্বিত করেছে।

শাসক শিবিরে চাপ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

বিধানসভা ভোটের পর থেকেই একের পর এক হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারি শাসক শিবিরকে লাগাতার ব্যাকফুটে ঠেলে দিচ্ছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পর এবার সুজিত বসুর মতো প্রভাবশালী নেতার ইডি হেফাজতে যাওয়া বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক মহলে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। বিরোধীরা যখন এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হচ্ছে, তখন শাসক দলের পক্ষ থেকে একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবেই দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আপাতত আগামী ১০ দিন ইডি হেফাজতে থেকে গোয়েন্দাদের কোন কোন কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় প্রাক্তন মন্ত্রীকে এবং এই জেরায় নতুন কোনো রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসে কিনা, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজ্যের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *