ধোনির বিদায়ী ম্যাচ দেখতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় ক্রিকেটমহল

চলতি ২০২৬ আইপিএল টুর্নামেন্টের লিগ পর্ব শেষের মুখে চলে এলেও চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি এখনও পর্যন্ত চলতি মরশুমে একটিও ম্যাচ খেলেননি। এর মাঝেই হঠাৎ সমাজমাধ্যমে ঝড় তুলেছে ধোনির অবসর সংক্রান্ত একটি খবর। ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, আগামী ১৮ মে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে আইপিএল কেরিয়ারের অন্তিম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’। শুধু তাই নয়, ধোনির এই বিদায়ী ম্যাচ চাক্ষুষ করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা এবং বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান ও সলমান খানের মতো অতিবিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন বলেও দাবি করা হয়েছে ওই ভিডিওগুলোতে।
জল্পনার নেপথ্য কারণ ও জমকালো আয়োজন
হঠাৎ ধোনির অবসর নিয়ে এমন শোরগোল পড়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে ২০২১ সালের একটি সাক্ষাৎকার। সে সময় ধোনি জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর আইপিএল কেরিয়ারের শেষ ম্যাচটি চেন্নাইয়ের ঘরের মাঠ চিপক স্টেডিয়ামেই খেলতে চান। কাকতালীয়ভাবে, ২০২৬ আইপিএল-এ চেন্নাই সুপার কিংস তাদের শেষ হোম ম্যাচটি খেলতে নামছে আগামী ১৮ মে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে। এই সমীকরণকে পুঁজি করেই সমাজমাধ্যমে জল্পনার ডালপালা ছড়াতে শুরু করেছে। ভাইরাল দাবি অনুযায়ী, এই ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিশেষ লেজার ও ড্রোন শো-এর আয়োজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আকাশের বুকে ফুটিয়ে তোলা হবে ধোনির বর্ণময় ক্রিকেট কেরিয়ার। এমনকি স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমস্ত দর্শককে সিএসকে-র জার্সি উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলেও গুঞ্জন উঠেছে।
বাস্তব পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভাইরাল হওয়া এই সমস্ত তথ্যের পেছনে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিলমোহর মেলেনি। মহেন্দ্র সিং ধোনি নিজে কিংবা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও চেন্নাই সুপার কিংস কর্তৃপক্ষ—কোনও পক্ষ থেকেই অফিশিয়ালি ধোনির অবসরের বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, ভাইরাল ভিডিওতে নাম জড়ানো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা অন্যান্য তারকাদের তরফ থেকেও এই ম্যাচ দেখার বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
তবে এই ধরনের খবর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই হু হু করে ছড়িয়ে পড়ায় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল উন্মাদনা ও বিভ্রান্তি দুই-ই তৈরি হয়েছে। ১৮ মে-র ম্যাচের টিকিটের চাহিদা আকাশছোঁয়া হতে পারে এবং মাঠের ভেতর ও বাইরে নিরাপত্তাজনিত চাপ এক ধাক্কায় বহুলাংশে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ধোনি ১৮ মে মাঠে নামেন কিনা, কিংবা আদৌ অবসরের ঘোষণা করেন কিনা—সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।