পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে সঙ্ঘ নেতার বার্তা, দিল্লি-ইসলামাবাদ সম্পর্কের বরফ কি গলবে এবার?
.jpg.webp)
প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর ইঙ্গিত দিয়ে আলোচনার দরজা খোলার প্রস্তাব দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সঙ্ঘের এই শীর্ষ নেতা স্পষ্ট করেছেন, কোনো দেশেরই অন্য দেশের জন্য আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ রাখা উচিত নয়। আরএসএসের মতো কট্টরপন্থী সংগঠনের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তির এমন মন্তব্য ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বারবার সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন, সেখানে হোসাবলের এই অবস্থানকে অনেকেই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও কাশ্মীরি নেতাদের স্বাগত
সঙ্ঘ নেতার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন ভিন্ন সুর দেখা যাচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ এবং পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি এই প্রস্তাবকে সানন্দে স্বাগত জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরের এই নেতারা পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার দাবি জানিয়ে গেরুয়া শিবিরের কটাক্ষের শিকার হয়েছেন। তবে হোসাবলের এই মন্তব্যে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভনের কাছ থেকে। সঙ্ঘ নেতার বক্তব্যকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই দেশের বৈরিতার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ নাগরিক এবং বিঘ্নিত হয় তাদের রুটি-রুজি। অন্যদিকে, কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক প্রভাব দেখছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দাবি, সঙ্ঘ নেতার সাম্প্রতিক মার্কিন সফরের পরই এই মন্তব্য আসায় এর পেছনে ওয়াশিংটনের কোনো চাপ বা মধ্যস্থতার চেষ্টা থাকতে পারে।
কূটনৈতিক প্রভাব ও জটিল সমীকরণ
২০১৮ সাল থেকে ভারতের মাটিতে একের পর এক পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গি হামলার জেরে দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত তলানিতে ঠেকেছে, যার ফলে সার্কের মতো আঞ্চলিক সহযোগিতার মঞ্চও অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে হোসাবলের প্রস্তাবকে পাকিস্তান বিদেশ মন্ত্রক স্বাগত জানালেও ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং বিজেপি নেতৃত্ব সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হোসাবলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে এড়িয়ে সে দেশের সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের কথা বললেও বাস্তব পরিস্থিতি বেশ জটিল, কারণ পাকিস্তানের শাসনভার অনেকাংশেই সেনা-নিয়ন্ত্রিত। তবে ভারত যদি সত্যিই আলোচনার উদ্যোগ নেয়, তবে পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক মহল এবং সে দেশের সুশীল সমাজের চাপ বাড়বে, যা সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার নীতি থেকে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করতে পারে।