পেট ফাঁপার যন্ত্রণায় ভুগছেন, জেনে নিন ঝটপট উপশম পাওয়ার দারুণ কিছু ঘরোয়া উপায়

দুপুরে বা রাতে ভারী খাবার খাওয়ার পর পেট বেলুনের মতো ফুলে যাওয়া কিংবা বুক জ্বালা করার সমস্যায় অনেকেই নিয়মিত ভুগে থাকেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অস্বস্তিকর অবস্থাকে বলা হয় ‘ব্লোটিং’। অতিরিক্ত গ্যাস, অ্যাসিডিটি, হজমের সমস্যা কিংবা ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম বা আইবিএস (IBS)-এর মতো একাধিক কারণে এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে ঘরোয়া কিছু সহজ কৌশল জানা থাকলে মাত্র ১০ মিনিটেই এই কষ্ট থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
পেট ফোলা ও গ্যাসের মূল কারণসমূহ
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাড়াহুড়ো করে খাবার খাওয়ার সময় পেটে অতিরিক্ত বাতাস প্রবেশ করে, যা পরবর্তীতে গ্যাসের সৃষ্টি করে। এছাড়া অতিরিক্ত ডাল, ছোলা, মটর, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, দুধ এবং কার্বোনেটেড ড্রিঙ্কস পেটে গিয়ে ফারমেন্ট বা গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাস তৈরি করে। শরীরে পর্যাপ্ত জলের অভাব হলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয় এবং আটকে থাকা মল থেকে গ্যাসের উৎপত্তি হয়। পাশাপাশি মানসিক চাপ বা অ্যাংজাইটি হজমপ্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং খালি পেটে চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস গ্যাস্ট্রিক জুসের ক্ষতি করে ব্লোটিংয়ের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ঝটপট আরাম পাওয়ার কার্যকরী টোটকা
পেট ফাঁপার তাৎক্ষণিক উপশমে জিরা ও আদার জল অত্যন্ত কার্যকরী। ১ গ্লাস জলে ১ চামচ জিরা এবং ১ ইঞ্চি থেঁতো করা আদা ৫ মিনিট ফুটিয়ে কুসুম গরম অবস্থায় খেলে আদা গ্যাস দূর করতে এবং জিরা হজমক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। পেটের মাসল রিল্যাক্স করতে এবং আটকে থাকা গ্যাস বের করে দিতে খাওয়ার পর ১ চামচ মৌরি চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। আরেকটি দারুণ উপায় হলো হিংয়ের ব্যবহার; এক চিমটে হিং হালকা গরম জলে গুলে নাভির চারপাশে ২ মিনিট মালিশ করলে দ্রুত গ্যাস নেমে যায়। এছাড়া পেটে ৫ মিনিট গরম জলের সেঁক দিয়ে ঘরের মধ্যে ১০ মিনিট পায়চারি করলে হজম ভালো হয়। গরমের দিনে পেট ঠান্ডা রাখতে এবং অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে চিনি ছাড়া পুদিনা-লেবুর শরবতও বিশেষ ভূমিকা রাখে।
সতর্কতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন
গ্যাসের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে রাতে মুসুর বা বিউলির ডাল এবং শসা, পেঁয়াজ বা মূলার মতো কাঁচা স্যালাড খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। কোল্ড ড্রিঙ্কস, চুইং গাম এবং অতিরিক্ত ঝাল-তেলযুক্ত খাবার পাকস্থলীতে জ্বালা ও গ্যাস সৃষ্টি করে। খাবার খাওয়ার মাঝখানে জল না খেয়ে অন্তত ৩০ মিনিট পর জল খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
কলকাতা মেডিকেল কলেজের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. সুমন মণ্ডল জানান, মাঝে মাঝে গ্যাস হওয়া স্বাভাবিক হলেও যদি পেট ফাঁপার সাথে হঠাৎ ওজন হ্রাস, পায়খানার সাথে রক্তপাত, ঘন ঘন বমি কিংবা টানা ৩ সপ্তাহের বেশি এই সমস্যা স্থায়ী হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ এটি আলসার বা গলব্লাডার স্টোনের মতো বড় কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে। দৈনন্দিন জীবনে খাবার ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া, একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া এবং রোজ খাবারে টক দই রাখার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে দীর্ঘমেয়াদে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।