জ্বালানির দামে আগুন, মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন রাহুল গান্ধী

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার আবহে দেশজুড়ে একধাক্কায় লিটার প্রতি ৩ টাকা বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, মোদী সরকারের ভুল নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অন্যদিকে, বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে এই মূল্যবৃদ্ধিকে যুক্তিযুক্ত বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ মোদী সরকারকে নিশানা করে রাহুল গান্ধী একে এক প্রকার “তোলাবাজি” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, এই মূল্যবৃদ্ধি আসলে কিস্তিতে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার শামিল। ৩ টাকার এই ধাক্কা কেবল শুরু এবং আগামী দিনে জনগণকে আরও বড় আর্থিক বোঝার মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই দাম বৃদ্ধির ফলে নতুন দিল্লিতে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি বেড়ে হয়েছে ৯৭.৭৭ টাকা এবং ডিজেল ৯০.৬৭ টাকায় পৌঁছেছে।
বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতি ও কেন্দ্রের পাল্টা যুক্তি
রাহুল গান্ধীর এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারত সরকার অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে যেখানে বিশ্বের বহু দেশে জ্বালানির দাম ২০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানে ভারতে পেট্রোলে মাত্র ৩.২ শতাংশ এবং ডিজেলে ৩.৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ব বাজারে যখন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তখনও ভারতের তেল সংস্থাগুলি লোকসান সয়ে নাগরিকদের মুদ্রাস্ফীতি থেকে বাঁচিয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইজরায়েল এবং ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার পার করায় অভ্যন্তরীণ বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে পড়ে। তবে পেট্রোল ও ডিজেলের এই দাম বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পরিবহণ খরচ বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে আমজনতার ওপর বাজারের বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।