রেকর্ড গড়ে যোগী রাজত্বে আখ চাষিদের ঘরে ৩ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকা

উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি খাতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন সরকার। বিগত ৯ বছরে রাজ্যের আখ চাষিদের রেকর্ড ৩,২১,৯৬৩ কোটি টাকা পরিশোধ করে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে বর্তমান সরকার। ‘স্মার্ট আখ কিসান’ যোজনার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) ব্যবস্থার সফল প্রয়োগের ফলে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে আখের টাকা এখন সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে এক মজবুত স্তম্ভের ওপর দাঁড় করিয়েছে।
আগের সরকারের তুলনায় বহুগুণ বেশি অর্থ প্রদান
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সরকারগুলির তুলনায় যোগী সরকারের এই অর্থ প্রদানের পরিমাণ বহুগুণ বেশি। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাজ্যে আখ চাষিদের ৫২,১৩১ কোটি টাকা এবং ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ৯৫,২১৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বর্তমান সরকারের ৯ বছরের নীতি ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা আখ চাষের সামগ্রিক চিত্র বদলে দিয়েছে। ‘স্মার্ট আখ কিসান’ যোজনার মাধ্যমে আখের এলাকা নির্ধারণ, ক্যালেন্ডারিং এবং রসিদ দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইন করায় কৃষকরা এখন ঘরে বসেই মোবাইলে সমস্ত তথ্য পাচ্ছেন।
মূল্যবৃদ্ধি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ইতিবাচক প্রভাব
যোগী সরকার ২০২৫-২৬ মরসুমের জন্য আখের দাম প্রতি কুইন্টালে ৩০ টাকা বাড়িয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, আগাম জাতের আখের দাম প্রতি কুইন্টাল ৪০০ টাকা এবং সাধারণ জাতের দাম ৩৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রায় ৪৮ লক্ষ আখ চাষি পরিবার সরাসরি উপকৃত হচ্ছে এবং কৃষকরা প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত পাবেন। পাশাপাশি, কৃষকদের সুবিধার্থে ‘ই-আখ’ অ্যাপ, অনলাইন সার্ভে এবং ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় টোল-ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে, যা চাষিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করেছে।
চিনিকলের সম্প্রসারণ ও শিল্পক্ষেত্রের জোয়ার
সরকারি উদ্যোগের ফলে উত্তরপ্রদেশ এখন দেশের বৃহত্তম আখ উৎপাদক রাজ্যে পরিণত হয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে রাজ্যে ২৯.৫১ লক্ষ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে এবং বর্তমানে ১২১টি চিনিকল চালু রয়েছে। বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু করা এবং আধুনিকীকরণের মাধ্যমে মাড়াই ক্ষমতা ১,২৮,৫০০ টিসিডি বাড়ানো হয়েছে। আখের উপজাত হিসেবে ইথানল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৮৮ কোটি লিটারে পৌঁছেছে। এই শিল্প বিপ্লবের ফলে গত ৯ বছরে রাজ্যে প্রায় ৬৯২৪ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ এসেছে এবং ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আখের এই বাম্পার ফলন ও শিল্পায়ন উত্তরপ্রদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।