কিম জং উন নিহত হলেই কি পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হবে! উত্তর কোরিয়ার সংবিধানে বিপজ্জনক বদল

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষনেতা কিম জং উনকে হত্যা করা হলে বা কোনও বিদেশি হামলায় দেশের মূল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলে এখন থেকে আর নতুন কোনও নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। সামরিক বাহিনী সরাসরি ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে শত্রুপক্ষকে পাল্টা জবাব দিতে পারবে। সম্প্রতি নিজেদের সংবিধানে এমনই এক নজিরবিহীন ও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। গত ২২ মার্চ পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত উত্তর কোরিয়ার ১৫তম সর্বোচ্চ গণপরিষদের অধিবেশনে এই সাংবিধানিক সংশোধনীটি পাস করা হয়, যা দেশটির পারমাণবিক নীতিকে মৌখিক পর্যায় থেকে আইনিভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করল।
ইরান ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা ও কিমের নিরাপত্তা উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইজরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই ও তাঁর উপদেষ্টাদের মৃত্যুর ঘটনাটি উত্তর কোরিয়াকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছে। শত্রুপক্ষ যেভাবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইরানি নেতৃত্বকে নির্মূল করেছে, তা কিম জং উন প্রশাসনের মনে গভীর ভীতি ও উদ্বেগের জন্ম দেয়। ফলে নিজের দেশকে রক্ষা করতে এবং প্রতিপক্ষের নেতৃত্ব ধ্বংসের কৌশল বা ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ রুখতেই পিয়ংইয়ং এই ‘ডেড হ্যান্ড’ বা স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক পাল্টা হামলার নীতি সংবিধানে যুক্ত করেছে।
নিরাপত্তা প্রশ্নে কিম জং উন বরাবরই চরম সতর্ক। তিনি বিমান সফর এড়িয়ে সর্বদা সাঁজোয়া ট্রেনে যাতায়াত করেন এবং কড়া সুরক্ষাবলয়ে থাকেন। ইরানে নেতাদের অবস্থান শনাক্ত করতে বিদেশি গোয়েন্দারা ট্র্যাফিক ক্যামেরা হ্যাক করার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও উত্তর কোরিয়ায় সিসিটিভি এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় সেই সুযোগ কম। তবুও আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে কিম প্রশাসন প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকে।
পূর্ব এশিয়ায় বাড়তে থাকা পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি
এই নতুন সাংবিধানিক পরিবর্তনের ফলে পূর্ব এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল ও বিপজ্জনক রূপ নিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কিমের কমান্ড টিম বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আক্রান্ত হওয়া মাত্রই কোনও রকম সময় নষ্ট না করে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হবে। উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনী তাদের নেতৃত্বের প্রতি চরম অনুগত এবং তারা যে কোনও বিদেশি আক্রমণকে অস্তিত্বের সংকট হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে এই নতুন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা আকস্মিক কোনও হামলার জেরে এই অঞ্চলে মুহূর্তের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ পরমাণু যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গেল।