৫. ‘সন্তান পালন এখন বিলাসিতা?’ ৭ কোটির হিসাব প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় শোরগোল

বর্তমান যুগে ভারতের মেট্রো শহরগুলোতে সন্তান লালন-পালন করা কতটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিলেন এক আর্থিক উপদেষ্টা। সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর উদয়ন আধ্যে দাবি করেছেন, বর্তমান বাজারদরের হিসাবে মুম্বই, দিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু কিংবা কলকাতার মতো বড় শহরে একটি মাত্র সন্তানকে লালন-পালন করতে অভিভাবকদের প্রায় ৬.৭৫ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তাঁর এই হিসাব সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

শিক্ষা ও জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয়

আর্থিক উপদেষ্টা উদয়ন আধ্যের মতে, অনেক অভিভাবকই সন্তান প্রতিপালনের প্রকৃত খরচ আগে থেকে অনুমান করতে পারেন না। তিনি ২১ বছরের একটি সময়সীমা ধরে শিক্ষা, জীবনযাত্রা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচ বিশদে ভেঙে দেখিয়েছেন। তাঁর দাবি, শিশুদের জন্য বাজারে থাকা সাধারণ আর্থিক পণ্যগুলো মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ রিটার্ন দিলেও, স্কুল ও কলেজের খরচ প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে। এই মুদ্রাস্ফীতির কারণে প্রতি ৬ বছরে পড়াশোনার খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, বর্তমানে চার বছরের কলেজ পড়াশোনার খরচ যেখানে ২০ লক্ষ টাকা, একটি শিশুর ১৮ বছর বয়স হতে হতে তা বেড়ে ১.৬ থেকে ২ কোটি টাকায় পৌঁছোতে পারে। এর সঙ্গে স্কুলের ফি, খেলাধুলা, গান ও কোচিং ক্লাস, প্রযুক্তিযুক্ত খেলনা, গ্যাজেট, চিকিৎসা এবং ছুটি কাটানোর মতো আনুষঙ্গিক খরচ যোগ হয়ে অঙ্কটা বিশাল আকার ধারণ করে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সামাজিক উদ্বেগ

এই বিপুল খরচের কারণে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার জন্য পরিবারগুলোকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হচ্ছে অথবা সন্তানের ওপরই সেই বোঝা চেপে বসছে। ফলে সন্তান নেওয়া এখন আর শুধু আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি অত্যন্ত গুরুতর আর্থিক লক্ষ্য হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

তবে এই হিসাব সামনে আসার পর সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নেটাগরিকদের একাংশের মতে, এই হিসাব কেবল বড় শহরের উচ্চবিত্ত শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য, ভারতের সাধারণ মানুষের বড় অংশের সঙ্গে এর মিল নেই। অন্যদিকে, এই ধরনের তথ্য তরুণ প্রজন্মের মনে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি করছে বলে অনেকেই মনে করছেন, যার প্রভাবে অনেকে ভবিষ্যতে সন্তানধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরতও থাকতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *