মৌনী এবং সূরজের পথে আরও অনেকেই, ইগোর আড়ালে বলিউডে ভাঙল যত সুখের সংসার!

বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায় যেমন সম্পর্কের আলো ঝলমল করে, তেমনই তার আড়ালে থাকা সম্পর্কের ভাঙনও বারবার খবরের শিরোনামে চলে আসে। অতি সম্প্রতি অভিনেত্রী মৌনী রায় ও সূরজ নাম্বিয়ারের বিচ্ছেদের খবর বলিপাড়ায় নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত ছয় মাস ধরে তাঁরা আলাদা থাকছেন এবং শীঘ্রই আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটবেন বলে জানা গেছে। তবে এই বিচ্ছেদের নেপথ্যে কোনো প্রতারণা নয়, বরং উঠে আসছে সামাজিক পরিসরে গুরুত্ব কমে যাওয়ার অনুভূতি এবং প্রচ্ছন্ন ‘ইগো’ বা অহংবোধের লড়াই। মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, সম্পর্কে যখন অহং নেতিবাচক রূপ ধারণ করে, তখন দূরত্বের দেয়াল আরও চওড়া হয়। মৌনী ও সূরজই প্রথম নন, এর আগেও বলিউডের একাধিক প্রথম সারির তারকাজুটি এই অহং ও মতান্তরের জেরে আলাদা হয়ে গেছেন।
পেশাগত সাফল্য এবং জীবনদর্শনের সংঘাত
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হৃতিক রোশন ও সুজ়ান খানের দীর্ঘ দাম্পত্যজীবনের অবসান ভক্তদের গভীরভাবে অবাক করেছিল। পর্দার পেছনের গুঞ্জন অনুযায়ী, হৃতিকের আকাশছোঁয়া সাফল্য ও ব্যস্ত পেশাগত জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মতভেদ এবং ইগোর লড়াই তাঁদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করেছিল। অন্যদিকে, মলাইকা অরোরা ও আরবাজ় খানের বিচ্ছেদের পেছনেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনদর্শনে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হওয়াকে দায়ী করা হয়। তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আলাদা হয়ে যাওয়ায় এবং প্রতিনিয়ত মনোমালিন্য তৈরি হওয়ায় এই দীর্ঘ সম্পর্কের অবসান ঘটে।
ব্যক্তিগত প্রত্যাশা ও বোঝাপড়ার অভাব
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্কে থাকা জন আব্রাহাম ও বিপাশা বসুর বিচ্ছেদও বলিপাড়ার এক বড় ধাক্কা ছিল। সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্ন প্রত্যাশার কারণে তৈরি হওয়া ব্যক্তিগত মতপার্থক্যই এই ভালোবাসার সম্পর্ককে ভেঙে দেয়। একইভাবে করিশ্মা কপূর ও সঞ্জয় কপূরের বৈবাহিক জীবন মারাত্মক আইনি টানাপড়েন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার চরম অভাবের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। দিয়া মির্জ়া ও সাহিল সঙ্ঘার ক্ষেত্রেও প্রকাশ্যে শান্তপূর্ণ বিচ্ছেদের কথা বলা হলেও, নেপথ্যে ব্যক্তিগত অহং ও মতবিরোধকেই প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হয়।
তারকাদের এই ধারাবাহিক বিচ্ছেদ প্রমাণ করে যে, খ্যাতির আলো যতই থাকুক না কেন, পারস্পরিক গুরুত্ব ও ইগোর ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে যেকোনো মজবুত সম্পর্কও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে।