জ্বালানি সাশ্রয়ে সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, সপ্তাহে দু’দিন সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল শুনানি

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি সংকটের জেরে দেশজুড়ে সাশ্রয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি উদ্বেগ কমাতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নির্দেশে এক পূর্ণাঙ্গ আদালত বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে সপ্তাহে দু’দিন সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি হবে সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল বা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে।
প্রধানমন্ত্রীর সাশ্রয় নীতির আহ্বানের পর ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা নিজেদের গাড়ির খরচ কমিয়েছেন। একাধিক রাজ্যে স্কুল-কলেজে অনলাইন পড়াশোনা এবং বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা নতুন করে শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের শীর্ষ আদালতও জ্বালানি খরচ কমাতে এবং পরিবেশ রক্ষায় একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।
ভার্চুয়াল শুনানি ও কারপুলিংয়ের সিদ্ধান্ত
সুপ্রিম কোর্টের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, জুন ও জুলাই মাসের আংশিক কার্যদিবসে প্রতি সোমবার এবং শুক্রবার সমস্ত মামলার শুনানি শুধুমাত্র ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সপ্তাহের বাকি কার্যদিবসগুলিতে (মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার) হাইব্রিড মোডে আদালত চলবে, যেখানে আইনজীবীরা চাইলে সশরীরে অথবা অনলাইনের মাধ্যমে উপস্থিত থাকতে পারবেন। শুধু তাই নয়, জ্বালানি খরচ আরও কমাতে শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরাও কারপুলিং বা গাড়ি ভাগাভাগি করে আদালতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রেজিস্ট্রি কর্মীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’
আদালতের প্রশাসনিক কাজ সচল রাখার পাশাপাশি যাতায়াতের খরচ ও জ্বালানি বাঁচাতে সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রির প্রতিটি শাখা বা বিভাগের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ কর্মী সপ্তাহে দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি পাবেন। তবে দূর থেকে কাজ করলেও কর্মীদের ফোনে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে অফিসে উপস্থিত হতে হবে। স্থিতিশীল ভিডিও কনফারেন্সিং সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে রেজিস্ট্রিকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও প্রশাসনের তৎপরতা
শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে আইনি পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ডিজিটাল রূপান্তর ঘটতে চলেছে। একদিকে যেমন বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের যাতায়াতের খরচ এবং সময় বাঁচবে, অন্যদিকে সরকারি স্তরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হবে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই দূরদর্শী পদক্ষেপ আগামী দিনে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের পথে হাঁটতে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।