কেরলে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হতেই জোট শরিকের হুংকার, বিতর্কে মুসলিম লিগ

কেরলে ভিডি সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হতেই কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) কর্মীরা রাজ্যজুড়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। তবে এই উদযাপনের মাঝেই ইডুক্কি জেলায় লিগের বিজয় মিছিলে ‘কেরল ভূমে লিগই আইন ঠিক করে!’ এবং ‘কেরলে আমরাই নীতি নির্ধারণ করি’ এমন বেশ কিছু স্লোগান ওঠায় চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

১৪০ আসনবিশিষ্ট কেরল বিধানসভায় ২২টি আসনে জিতে বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে মুসলিম লিগ। মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে কে সি বেণুগোপাল ও রমেশ চেন্নিথালার মতো হেভিওয়েটদের পেছনে ফেলে সতীশনের নাম চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে লিগের জোরালো সমর্থন বড় ভূমিকা পালন করেছে। এই ঘটনাকে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তির জয় হিসেবে দেখছেন দলটির মাঠপর্যায়ের কর্মীরা।

সামাজিক নেতৃত্বকে নিশানা ও বিতর্কের সূত্রপাত

উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি মুসলিম লিগের এই মিছিলে রাজ্যের প্রভাবশালী সামাজিক সংগঠন ‘নায়ার সার্ভিস সোসাইটি’ (এনএসএস) প্রধান সুকুমারণ নায়ার এবং ‘শ্রী নারায়ণ ধর্ম পরিপালনা’ (এসএনডিপি) যোগমের সাধারণ সম্পাদক ভেল্লাপল্লি নাটেশনকে সরাসরি আক্রমণ করে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, এই দুই সামাজিক নেতৃত্ব সতীশনের নাম মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য প্রথম পছন্দে রাখেননি, যার জেরেই এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেওয়ায় এবং দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হওয়ায় মুসলিম ইউথ লিগ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাদের ইডুক্কি জেলা কমিটিকে সাসপেন্ড করেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য সমীকরণ

এই ঘটনার ফলে কেরলে বিরোধী শিবির অর্থাৎ সিপিএম এবং বিজেপি-র পুরনো অভিযোগ আবার নতুন করে জোরালো রূপ পেয়েছে। বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিল যে, কেরলে কংগ্রেস আসলে মুসলিম লিগের রাজনৈতিক এজেন্ডা মেনেই চলে এবং তাদের সমঝে চলে। নতুন মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের ১১ জন মন্ত্রীর পাশাপাশি মুসলিম লিগ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক পেতে চলেছে, যা প্রশাসনের ওপর তাদের গভীর প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান আগামী দিনে কেরলে জোট সরকারের স্থায়িত্ব, সামাজিক সম্প্রীতি এবং কংগ্রেসের ভাবমূর্তির ওপর বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *