দখলমুক্ত ভেড়িতে পুরনো মেজাজে দিলীপ ঘোষ, মাছ ধরে সারলেন মুড়ি প্রাতঃরাশ

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মন্ত্রিসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কাঁধে এসেছে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং প্রাণী সম্পদ দপ্তরের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে প্রশাসনিক শীর্ষ পদে বসার পরেও নিজের চেনা ও মাটির কাছাকাছি ভাবমূর্তি বজায় রাখলেন তিনি। শনিবার সকালে বিধাননগরের খাসমবল এলাকায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মেজাজে ধরা দিলেন রাজ্যের নতুন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে গিয়ে ভেড়িতে জাল ফেলে মাছ ধরলেন, দাঁড় টেনে নৌকা চালালেন এবং সেই টাটকা মাছ ভাজা ও মুড়ি দিয়ে প্রাতঃরাশ সারলেন।

পালাবদলের পর স্বস্তি খাসমবলে

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগরের এই খাসমবল এলাকার মাছের ভেড়িগুলি বিগত রাজনৈতিক জমানায় জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর সম্প্রতি সেইসব ভেড়ি আবার প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই দখলমুক্তির আবহে শনিবার সকালে ওই এলাকায় একটি চা-চক্রে যোগ দিতে যান মন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ফুলের মালা ও মিষ্টি দিয়ে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। গ্রামবাসীদের অনুরোধে সাড়া দিয়েই তিনি সরাসরি নেমে পড়েন ভেড়ির কর্মকাণ্ডে।

জনসংযোগে চেনা রূপ

এদিন খড়গপুরের সেই পরিচিত চেনা ছন্দে দেখা যায় দিলীপ ঘোষকে। নিজেই জাল হাতে নিয়ে ভেড়ির জলে নেমে পড়েন এবং দক্ষ হাতে জাল ফেলেন। সেই জালে বেশ কিছু মাছ উঠলে অনুগামীদের উৎসাহ ও ভিড় আরও বাড়ে। এরপর ভেড়ির জলে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড় টেনে নৌকাও চালান তিনি। মাছ ধরার পর সেই টাটকা মাছ ভেজে মুড়ি দিয়ে প্রাতঃরাশ সারেন মন্ত্রী। প্রাতঃরাশের পর গাছ থেকে পেড়ে আনা ডাবের জল দিয়ে তৃষ্ণা মেটান। প্রিয় নেতাকে এভাবে নিজেদের মাঝে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন স্থানীয় মৎস্যজীবী ও বাসিন্দারা।

কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই ঘটনার রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে থাকা অর্থনৈতিক উৎসগুলি প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতে ফিরে আসায় এলাকায় গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিজের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী জানান, ২০২১ সালে তাঁরা এখানে মাছের চারা ছেড়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে সেসব দখল করে নেওয়া হয়। এখন মানুষ নিজেদের অধিকার ফিরে পাওয়ায় খুশি। এই ধরনের সক্রিয় ও নিবিড় জনসংযোগের মাধ্যমে নতুন সরকার গ্রামীণ স্তরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ মজবুত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে, যা আগামী দিনে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নের কাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *