অতীতের ‘শিবলিঙ্গ’ টেনে সায়নীকে তীব্র আক্রমণ জীতু কমলের

টলিউডের অন্দরে রাজনৈতিক ক্ষমতার আস্ফালন এবং কাদা ছোড়াছুড়ি এবার এক চরম রূপ ধারণ করেছে। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ‘অপরাজিত’-র দুই পরিচিত মুখ, অভিনেতা জীতু কমল এবং যাদবপুরের সাংসদ-অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের মধ্যকার পারস্পরিক বিরোধ এখন সোশাল মিডিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দিন কয়েক ধরে ইন্ডাস্ট্রির একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেওয়া জীতুকে সায়নী ‘টলিউডের কঙ্গনা রানাওয়াত’ বলে কটাক্ষ করতেই, পাল্টা জবাবে অতীতের তীব্র বিতর্কিত ‘কন্ডোম কাণ্ড’ মনে করিয়ে দিয়েছেন জীতু কমল।

কটাক্ষ ও পাল্টা হুমকি

এই চরম বাগযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে সায়নী ঘোষের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি জীতুকে উদ্দেশ্য করে নিজেকে ‘সত্যজিৎ রায়’ ভাবা বন্ধ করার পরামর্শ দেন। এরই জবাবে জীতু কমল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে সায়নীর পুরনো শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরানোর বিতর্কিত ঘটনার স্মৃতি আউড়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয়, অতীতে তাঁর এবং তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর একটি ব্যক্তিগত সংকটের সময়ে সায়নী ঘোষের পক্ষ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পরোক্ষ হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন জীতু। পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।

রাজনৈতিক প্রভাব ও টালমাটাল পরিস্থিতি

বিনোদনের আঙিনা থেকে শুরু হওয়া এই ব্যক্তিগত সংঘাত এখন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। জীতু কমল সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শাসক দলের ফলাফল এবং সাংসদের ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ টেনে এনে সায়নীকে ‘পাল্টিবাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। টলিউডের টেকনিশিয়ানদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর যে অভিযোগ জীতু তুলেছেন, তা বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের গভীর ফাটল ও দলীয়করণের রাজনীতিকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। এই ঘটনার জেরে টলিউডের অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং শিল্পীদের বাকস্বাধীনতার বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *