অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনের পুরনো বাড়িতে রহস্যজনক আগুন, রাজনৈতিক তরজায় উত্তপ্ত জলপাইগুড়ি

জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তথা বিশিষ্ট অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনের পরিত্যক্ত ঘোষপাড়ার বাড়িতে শুক্রবার রাতে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে চাঞ্চল্য ছড়ানোর পাশাপাশি জেলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। স্বপ্না বর্মন নিজে সামাজিক মাধ্যমে বাড়িতে অগ্নিসংযোগের দাবি করলেও বিষয়টি নিয়ে এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে পারিবারিক কোন্দল বলে দাবি করে সুর চড়িয়েছে বিজেপি।

তৃণমূল প্রার্থীর পরস্পর-বিরোধী মন্তব্য এবং ধোঁয়াশা

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে স্বপ্না বর্মনের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি দাবি করেন তাঁর বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে কারা এই ঘটনার পেছনে রয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজনীতিতে আসা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন যে যাঁদের নিয়ে তিনি ভোট প্রচার করেছিলেন, তাঁরা এখন অন্য দিকে চলে গিয়েছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে নির্দিষ্টভাবে কারও নাম না বলায় এবং পুলিশে লিখিত অভিযোগ না করায় গোটা ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

পারিবারিক বিবাদের তত্ত্ব ও বিজেপির খোঁচা

ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক দীনেশ সরকার সম্পূর্ণ বিষয়টি স্বপ্নার পারিবারিক অশান্তির ফল বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, স্বপ্নার পরিবারে ভাই-বোনদের মধ্যে প্রায়শই বিবাদ লেগেই থাকে এবং ঘটনার দিন তাঁর ছোট ভাই বাড়িতে ঢোকার পরই এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনো কর্মী জড়িত নন বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও এই বিষয়ে তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেছেন যে একজন অ্যাথলিট হিসেবে স্বপ্নার সম্মানের সঙ্গে থাকা উচিত ছিল, কিন্তু তিনি অসৎ সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।

ঘটনার কারণ ও ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়ার এই বাড়িটি বর্তমানে পরিত্যক্ত। স্বপ্না ও তাঁর পরিবার এখন টিন পাড়ার নতুন বাড়িতে থাকেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বা পারিবারিক বিবাদের জেরে নিজেরাই এই আগুন লাগিয়েছে। পরিত্যক্ত বাড়ির পাশে অন্য বসতবাড়ি থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গ্রামবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমরনাথ কে জানিয়েছেন, পুরনো বাড়ির রান্নাঘরের পাশে রাখা কিছু জ্বালানি কাঠে কোনোভাবে আগুন লেগে গিয়েছিল। এতে কিছু জিনিসপত্র পুড়লেও মূল বাড়ির বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *