ট্রাম্প বাহিনীর গোপন অভিযানে খতম আইএসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড!

বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করা জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে এক বিরাট সাফল্য অর্জন করল মার্কিন সেনা। নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সাথে এক অত্যন্ত গোপন ও সুপরিকল্পিত যৌথ অভিযানে খতম হয়েছে আইএসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড আবু-বিলাল আল-মিনুকি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই ঐতিহাসিক অভিযানের খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে এই বিষয়ে ইসলামিক স্টেটের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জটিল মিশন
নাইজেরিয়ার মাটিতে এই অভিযানটি অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ কিছু ‘সোর্স’ বা গোপন সূত্রের মাধ্যমে আল-মিনুকির অবস্থান ও গতিবিধির সুনির্দিষ্ট খবর পাওয়া যায়। এরপর ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন ও নাইজেরিয়ান বাহিনী যৌথভাবে এই নিখুঁত অপারেশন পরিচালনা করে বিশ্বের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড এই জঙ্গিকে নিকেশ করে।
বৈশ্বিক সন্ত্রাসের মূল চক্রী
আবু বাকর মুহাম্মদ আল মইনুকি ওরফে আবু বিলাল আল-মিনুকি ছিলেন নাইজেরিয়ার নাগরিক। ২০২৩ সালেই মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাকে ‘গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। সে মূলত আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চলের সিনিয়র কম্যান্ডার হলেও, গোটা বিশ্বে সংগঠনের যাবতীয় কার্যকলাপ পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ফান্ডিং বা আর্থিক সাহায্য জোগাড়ের মূল দায়িত্বে ছিল। আমেরিকায় ঘটা একাধিক আইএস হামলার নেপথ্যেও এই মিনুকির হাত ছিল বলে জানা গেছে।
ভেঙে পড়ল আইএসের গ্লোবাল নেটওয়ার্ক
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের মৃত্যুতে ইসলামিক স্টেটের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং আর্থিক লেনদেনের চেইনটি বড়সড় ধাক্কা খেল। ট্রাম্পের দাবি, মিনুকিকে নিকেশের মাধ্যমে আইসিসের গ্লোবাল অপারেশন বা বৈশ্বিক সন্ত্রাসী কার্যক্রম কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। এর আগে সিরিয়া ও নাইজেরিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে মার্কিন সেনা লাগাতার হামলা চালালেও, মিনুকির পতনকে সাম্প্রতিক সময়ে আইএসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।