কাটমানি ফাইলস খুলতেই ধুন্ধুমার দিনহাটায়, ঘুষের টাকা ফেরতের দাবিতে তৃণমূল উপপ্রধানের বাড়ি ঘেরাও

রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতি বিরোধী তৎপরতা শুরু হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল কোচবিহারের দিনহাটায়। বাংলা আবাস যোজনার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগে পুটিমারী ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল পরিচালিত উপপ্রধান প্রিয়ঙ্কর রায় বর্মনের বাড়ি ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। কারও কাছ থেকে দশ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে কুড়ি হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। শনিবার দুপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়।
বিক্ষোভ ও নেতার অন্তর্ধান
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠছিল এই দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে। দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলেও গ্রামবাসীদের দাবি। এদিন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে উপপ্রধানের বাড়ি ঘেরাও করে নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরতের দাবিতে সরব হন। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই দেখা যায় উপপ্রধান প্রিয়ঙ্কর বর্মন এলাকা থেকে পলাতক। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে গ্রামবাসীদের কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর আন্দোলনকারীরা জানান, দ্রুত টাকা ফেরত না পেলে তাঁরা সরাসরি প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন।
প্রশাসনের কড়া বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের সাম্প্রতিক এক বড়সড় পদক্ষেপ। শনিবারই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এক প্রশাসনিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে পুলিশকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল বা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে লেনদেনের প্রমাণ থাকলে, কিংবা প্রমাণ ছাড়াও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তকারী অফিসাররা পদক্ষেপ করবেন বলে জানানো হয়েছে। তবে ভুয়ো অভিযোগের ক্ষেত্রেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্য জুড়ে এই প্রশাসনিক কড়াকড়ির জেরেই দীর্ঘদিন ধরে চেপে রাখা ক্ষোভ এবার রাস্তায় আছড়ে পড়ছে। দিনহাটার এই ঘটনা রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও কাটমানি বিরোধী আন্দোলনকে আরও উস্কে দিতে পারে, যার ফলে দুর্নীতিগ্রস্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চরম কোণঠাসা হয়ে পড়বেন।