সরকারি সম্পত্তি ভাঙলে দোষীদের থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায়ের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবার কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। উত্তরপ্রদেশের ধাঁচেই রাজ্যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার বিধির বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে আসানসোলের জাহাঙ্গির মহল্লা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করলে সেই ক্ষতিপূরণ অভিযুক্তদের পকেট থেকেই উসুল করা হবে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের ‘সাগরিকা’ টুরিস্ট হলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল সহ জেলাশাসক ও পুলিশ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসানসোলের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কোনও সরকারি জিনিসে হাত দেবেন না। পুলিশের কিছু হলে আমরা ছেড়ে কথা বলব না।” ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

কড়া বার্তা প্রশাসনের

মুখ্যমন্ত্রীর সুরেই এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অত্যন্ত কঠোরভাবে লাগু করা হবে। ধর্মের দোহাই দিয়ে রাস্তা বন্ধ করা বা জনমানসে হেনস্থা তৈরি করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। নির্দিষ্ট শব্দসীমার বাইরে মাইক বাজানোর উপরেও নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে। আইন যে সবার জন্য সমান এবং পুলিশকে আর নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে থাকতে দেওয়া হবে না, সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি

আসানসোলের পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাহাঙ্গির মহল্লা চত্বরে বিশাল পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধৃত সাতজন ছাড়াও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই তাণ্ডবের সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। খুব দ্রুত বাকি অভিযুক্তদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *