জন্মহার বাড়াতে অন্ধ্রপ্রদেশে তোলপাড় ফেলা ঘোষণা চন্দ্রবাবু নায়ডুর
দক্ষিণ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা রুখতে এক বেনজির পদক্ষেপ গ্রহণ করল এন চন্দ্রবাবু নায়ডুর সরকার। শনিবার শ্রীকাকুলামের এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, রাজ্যে জন্মহার বাড়াতে এবার তৃতীয় এবং চতুর্থ সন্তানের জন্মের ক্ষেত্রেও দম্পতিদের মোটা অঙ্কের আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃতীয় সন্তানের জন্ম হলে মিলবে ৩০ হাজার টাকা এবং চতুর্থ সন্তানের ক্ষেত্রে এই অনুদানের পরিমাণ হবে ৪০ হাজার টাকা। আগামী এক মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের রূপরেখা ও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষায় নয়া কৌশল
অন্ধ্রপ্রদেশে বর্তমানে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে ১.৫ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অঞ্চলের জনসংখ্যা স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে প্রতিস্থাপনের মাত্রা (রিপ্লেসমেন্ট রেট) অন্তত ২.১ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন। এই ঘাটতি পূরণ করতেই অন্ধ্র সরকার জনসংখ্যার নীতিতে ১৮০ ডিগ্রি বদল এনেছে। এর আগে গত মার্চ মাসে বিধানসভায় দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের জন্য ২৫ হাজার টাকা এককালীন অনুদান দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হয়েছিল, যা এবার আরও এক ধাপ বাড়িয়ে চার সন্তান পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হলো।
বদলে যাওয়া নীতি ও দূরগামী প্রভাব
একটা সময়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পক্ষে থাকা চন্দ্রবাবু নায়ডু এখন সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটছেন। তাঁর মতে, যুবসমাজের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রগতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এই নতুন আর্থিক উদ্দীপনা একদিকে যেমন নিম্নমুখী জন্মহারের ধারাকে পাল্টে দিতে পারে, অন্যদিকে এর ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং শিক্ষা খাতের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলিও আগামী দিনে অন্ধ্রপ্রদেশের এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির মডেল অনুসরণ করে কি না, এখন সেটাই দেখার।