মেদ ঝরাতে ইডলি নাকি ধোসা, ওজনের রাশ টানতে পাতে রাখবেন কোন পদ?
স্বাস্থ্য সচেতন বাঙালির ডায়েটে দক্ষিণ ভারতীয় খাবার বেশ জনপ্রিয়। ইডলি বা ধোসা— কোনোটাই ছাঁকা তেলে ভাজা নয় বলে পুষ্টিবিদরাও একে স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় রাখেন। চাল এবং বিউলির ডাল ভিজিয়ে, বেটে, খামির তৈরি করে এই দুই পদ রান্না করা হয়। তবে লক্ষ্য যদি হয় ওজন ঝরানো, তাহলে ইডলি ও ধোসার পুষ্টিগুণ এবং ক্যালোরির হিসাব জানা জরুরি।
উপকরণ এক হলেও তফাত গড়নে ও রন্ধনশৈলীতে
ইডলি সাধারণত গোল, নরম ও তুলতুলে হয়। এটি ভাপে তৈরি হওয়ায় এবং গাঁজন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ায় অত্যন্ত সহজপাচ্য এবং পেটের জন্য উপকারী। এর সঙ্গে থাকা সবজিমিশ্রিত সম্বর ডাল থেকে মেলে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ। অন্যদিকে নারকেলের চাটনি স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের জোগান দেয়।
ধোসা তুলনামূলকভাবে পাতলা ও মুচমুচে। উপকরণ এক হলেও ধোসা সাধারণত তেল বা মাখন দিয়ে সেঁকা হয় এবং এর ভেতরে নানা রকমের পুর ব্যবহার করা হয়। আলুর পুর ছাড়াও পেঁয়াজ, পনির, চিজ বা হরেক রকম সবজি দিয়ে ধোসা তৈরি করা যায়। সম্বর ও চাটনি সহযোগে খেলে ধোসা থেকেও প্রোটিন, ফ্যাট ও ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে ক্যালোরির হিসাব ও রদবদল
পুষ্টিবিদদের মতে, দুটি সাধারণ ইডলিতে ক্যালোরির পরিমাণ প্রায় ১০০ কিলোক্যালোরি। অন্যদিকে, একটি মাঝারি আকারের ধোসা থেকে মেলে ১১৬-১২২ কিলোক্যালোরি। ক্যালোরির পরিমাপের দিক থেকে ইডলি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও শুধু দুটি ইডলি খেয়ে দীর্ঘক্ষণ পেট নাও ভরতে পারে।
ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে এই দুই পদের উপকরণে কিছুটা পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ চালের বদলে ফাইবারে সমৃদ্ধ রাগি বা ওটস ব্যবহার করে ইডলি বা ধোসা তৈরি করলে পুষ্টিগুণ অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া ধোসার পুর হিসেবে আলুর পরিবর্তে প্রোটিন সমৃদ্ধ পনির বা সবজি ব্যবহার করলে এবং রান্নায় তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করলে তা মেদ ঝরাতে দারুণ কার্যকর হতে পারে। চূড়ান্ত বিচারে, খাবারের পরিমাণ এবং তা তৈরির পদ্ধতির ওপরই নির্ভর করছে ওজন বশে রাখার চাবিকাঠি।