তৃণমূল নেতা বাবুলালের জুয়ার সাম্রাজ্য নিয়ে তোলপাড় কাটোয়া, নেপথ্যের প্রভাবশালীদের খোঁজে তদন্তের দাবি
কাটোয়া শহরে তৃণমূল নেতা বাবুলাল শেখ এবং তাঁর পরিবারের দ্রুত উত্থান ও নানা বেআইনি কার্যকলাপের খতিয়ান প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুরসভার সামান্য মজদুর পদ থেকে শুরু করে শহরের একটি নামী স্কুলের পরিচালন সমিতির গুরুত্বপূর্ণ পদে বসার সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষিত মহল। অল্প সময়ের মধ্যে এই বিপুল প্রভাব ও সম্পত্তি বৃদ্ধির পেছনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মদত ছিল বলে জোরালো অভিযোগ উঠছে।
অবৈধ জুয়া এবং জমি দখলের সাম্রাজ্য
অভিযোগ, বাবুলাল শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কাটোয়া শহরের বালিঘাট নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল এবং একাধিক বেআইনি ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় শহরজুড়ে ‘ওয়ান ফিগার’ জুয়া ও বেআইনি লটারির কারবার চালানোর মূল মাথা ছিলেন বাবুলালের মেজ ভাই ছোট্টু শেখ। স্থানীয় কয়েকটি ক্লাবেও এই জুয়ার রমরমা ব্যবসা চলত, যার জেরে বহু সাধারণ মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া কার্তিক পুজোর মতো উৎসবগুলোতে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর এবং বুলডোজার নিয়ে দাদাগিরির শোভাযাত্রা করার অভিযোগও রয়েছে এই পরিবারের বিরুদ্ধে।
নেপথ্যে কারা এবং সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ঘনিষ্ঠতার কারণেই এতদিন এই বিশাল বেআইনি সাম্রাজ্য আড়ালে ছিল। তৃণমূলের কিছু নেতার প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া এই ধরনের চক্র চালানো অসম্ভব বলেই মনে করছেন বাসিন্দারা। বর্তমানে বাবুলাল শেখের তিন ভাই-ই বিভিন্ন বেআইনি কাজের অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং বিপুল সম্পত্তির উৎস সন্ধানে একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হলে এই চক্রের পেছনে থাকা অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।