ডায়মন্ড হারবারে শুভেন্দুর বৈঠকে হাজির তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল, তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম জেলা সফরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দুপুরে ডায়মন্ড হারবারে তাঁর প্রশাসনিক বৈঠক ঘিরে আগে থেকেই চড়ছিল পারদ। কিন্তু সমস্ত জল্পনাকে ছাপিয়ে এদিন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে ছুটে যান স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদার। দলের অনুমতি ছাড়াই তাঁর এই আকস্মিক সাক্ষাৎ রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি দলবদলের ইঙ্গিত

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় হিসেবে পরিচিত ডায়মন্ড হারবারে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আগামী ২১ তারিখ এই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা আসনে পুনর্নির্বাচন রয়েছে। তার ঠিক আগেই শুভেন্দু অধিকারীর এই মেগা প্রশাসনিক বৈঠক এবং সেখানে তৃণমূল বিধায়কের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বিরোধী শিবিরকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। দলীয় অনুমতি প্রসঙ্গে পান্নালাল হালদার স্পষ্ট জানান, এটি কোনো দলীয় বিষয়ের মধ্যে পড়ে না। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আসার অনুরোধ করেছিলেন এবং একজন বিধায়ক হিসেবে প্রশাসনিক প্রধানকে স্বাগত জানানো তাঁর কর্তব্য বলেই তিনি মনে করেন।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রথম জেলা সফরে ডায়মন্ড হারবারে আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন নিয়ে একটি মেগা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এডিজি আইন-শৃঙ্খলা এবং এডিজি দক্ষিণবঙ্গ। তৃণমূল বিধায়কের দাবি, তিনি ওই এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ এবং সার্বিক উন্নয়নের দাবি জানাতেই মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে অভিষেকের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর ভেতরে ঢুকে শুভেন্দুর এই বৈঠক এবং তৃণমূল বিধায়কের সেখানে ছুটে যাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনা আগামী দিনে শাসক দলের অন্দরে ফাটল আরও চওড়া করতে পারে এবং স্থানীয় স্তরের রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *