সিবিএসই স্কুলে এবার বড়সড় বদল, নবম ও দশম শ্রেণিতে দুটি ভারতীয় ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক করল বোর্ড
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্কুল শিক্ষায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম ও দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য নতুন ‘ভাষা নীতি’ ঘোষণা করেছে বোর্ড। সিবিএসই-র নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে নবম ও দশমে পড়ুয়াদের তিনটি ভাষা পড়তে হবে, যার মধ্যে অন্তত দুটি অবশ্যই ভারতীয় ভাষা হওয়া বাধ্যতামূলক। আগামী ১ জুলাই থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে।
বোর্ডের সার্কুলার অনুযায়ী, তিনটি ভাষার মধ্যে কোনো পড়ুয়া যদি ফরাসি বা জার্মানের মতো বিদেশি ভাষা পড়তে চায়, তবে তা কেবল তৃতীয় ভাষা হিসেবেই বেছে নেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে বাকি দুটি ভাষা ভারতীয় হতে হবে। কোনো পড়ুয়া চাইলে বিদেশি ভাষাকে চতুর্থ বা অতিরিক্ত ভাষা হিসেবেও রাখতে পারবে।
সিদ্ধান্তের কারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন
সিবিএসই জানিয়েছে, ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর গুরুত্ব বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এনসিইআরটি-র নতুন সিলেবাস পর্যালোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। মাঝপথে এই নিয়ম কার্যকর করার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়ম চালুর ক্ষেত্রে স্কুলগুলোর সুবিধার্থে একগুচ্ছ নির্দেশিকা দিয়েছে বোর্ড। আপাতত নবম শ্রেণির তৃতীয় ভাষার জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবই ব্যবহার করা হবে এবং ১৯টি ভারতীয় তফশিলি ভাষার বই ১ জুলাইয়ের আগে স্কুলগুলিতে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্থানীয় বা রাজ্যের জনপ্রিয় সাহিত্যকেও পঠনপাঠনের অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষক সংকট মেটানো ও সম্ভাব্য প্রভাব
নতুন ভাষা নীতি বাস্তবায়নে স্কুলগুলিতে যাতে শিক্ষকদের অভাব না হয়, তার জন্য বিকল্প পথ বাতলে দিয়েছে সিবিএসই। স্কুলগুলিকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ বা পার্শ্ববর্তী স্কুলের সঙ্গে ‘রিসোর্স শেয়ার’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উচ্চশিক্ষিত স্নাতকদেরও চুক্তির ভিত্তিতে ভাষা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা যাবে। সাপ্লিমেন্টারি মেটেরিয়াল বা অতিরিক্ত পঠন সামগ্রী ব্যবহারের বিস্তারিত গাইডলাইন আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সিবিএসই-র এই পদক্ষেপের ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে ভারতীয় ভাষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের ভাষাগত দক্ষতা আরও পোক্ত হবে। তবে শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে এই ধরনের বড় পরিবর্তন কার্যকর করা স্কুল ও পড়ুয়াদের জন্য পরিকাঠামোগতভাবে বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।