অনলাইন কাটমানির প্রমাণ মিললেই সোজা জেল, দুর্নীতি রুখতে মুখ্যমন্ত্রীর নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই দুর্নীতি এবং তোলাবাজি রুখতে আপসহীন মনোভাব নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশ প্রশাসনের খোলনলচে বদলে ফেলতে তিনি অত্যন্ত মরিয়া। এবার সাধারণ মানুষের সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন ও কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, একশো দিনের কাজ-সহ বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্প থেকে যারা বেআইনিভাবে বা অনলাইন জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তুলেছে, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।

বিগত কয়েক বছরে রাজ্যে ‘কাটমানি’ শব্দটা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে কার্যত জড়িয়ে গিয়েছিল। আবাস যোজনা কিংবা চিকিৎসার রক্ষাকবচ স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রতিটি সরকারি পরিষেবা পেতেই উপভোক্তাদের একাংশকে কাটমানি বা তোলা দিতে বাধ্য করা হত বলে ভুরি ভুরি অভিযোগ সামনে এসেছে। রাজ্যে সরকার বদলের পর সেই সমস্ত দুর্নীতিগ্রস্তদের কোমর ভাঙতে শনিবার ডায়মন্ড হারবারে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠক থেকেই দুর্নীতি দমনে পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশে অত্যন্ত কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যবাসীকে এক বড় আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

ডিজিটাল প্রমাণেই দ্রুত অ্যাকশন

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কোনও প্রকল্পের সুবিধা পেতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে যদি কাটমানি দিতে বাধ্য করা হয়, তবে কয়েকটি নির্দিষ্ট নথিপত্র দেখালেই প্রশাসন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেবে। এখন থেকে আর কাগজের চিঠির আশায় বসে থাকতে হবে না। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ হিসেবে যদি কেউ কোনও অনলাইন লেনদেনের নথি, যেমন পেটিএমের লেনদেনের বিবরণ কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি টাকা স্থানান্তরের অকাট্য প্রমাণ দেখাতে পারেন, তবে সেই নথির ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হবে।

এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, যদি কারও কাছে এই ধরনের ডিজিটাল নথি না থাকে, তাহলেও ঘাবড়ে যাওয়ার কারণ নেই। তাঁরা সরাসরি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ গুরুত্ব সহকারে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে। তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে দোষী ব্যক্তিকে রেয়াত করা হবে না।

মিথ্যা অভিযোগে কড়া ব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা

এই কড়া বার্তার একটি উল্টো দিক নিয়েও সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তদন্তে যদি দেখা যায় অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, তবে সেই মামলা তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বারবার মিথ্যা অভিযোগ জমা দেন, তবে সেই মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

প্রশাসনিক এই কড়া বার্তার পাশাপাশি এদিন রাজ্যের বেলডাঙা ও আসানসোল-সহ বেশ কিছু স্পর্শকাতর এলাকার পুলিশ প্রশাসনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সরকারি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কর্তব্য পালনে কোনও রকম গাফিলতি বা শিথিলতা দেখা গেলে তা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *