মঞ্চে পার্থর অভিনয়, দর্শকাসনে শমীক! ‘আ-শক্তি’তে দেখা গেল রাজনীতির অন্য ছবি

রাজনীতির ময়দানে তাঁরা একে অপরের ঘোর বিরোধী। কিন্তু মঞ্চের আলো আর শিল্পের টানে সেই বৈরিতা নিমেষেই মিলিয়ে গেল কলকাতার অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে। শনিবার সন্ধ্যায় নাট্যদল ‘পূর্ব-পশ্চিম’-এর প্রযোজনা ‘আ-শক্তি’ নাটকের মঞ্চ সাক্ষী থাকল এক বিরল সৌহার্দ্যের। দর্শকাসনে বসে বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য মুগ্ধ হয়ে দেখলেন তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের অনবদ্য অভিনয়। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্ন মেরুতে থাকা দুই নেতার এই শিল্পপ্রেম বঙ্গ রাজনীতিতে এক পজিটিভ বার্তা দিল।

কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জীবন, কবিতা ও মানসজগত অবলম্বনে নাট্যকার উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের লেখায় এবং দেবশঙ্কর হালদারের অভিনয়ে মঞ্চস্থ হয় ‘আ-শক্তি’। এই নাটকে ‘কলকাতা’ শহরের এক বিশেষ রূপক চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক। নাটক শেষে গ্রিনরুমে গিয়ে পার্থ সহ অন্যান্য অভিনেতাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান শমীক ভট্টাচার্য। পার্থ ভৌমিকের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, পার্থ নেতা হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি তাঁর অভিনয় দেখে আসছেন। ফলে অভিনেতা পার্থ তাঁর কাছে অনেক বেশি চেনা।

শিল্পের স্বাধীনতায় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য

এই মেলবন্ধনের নেপথ্যে রয়েছে দুই নেতারই গভীর শিল্প ও সাহিত্য অনুরাগ। শমীক ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক ভাষণেও প্রায়শই শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার উল্লেখ পাওয়া যায়। ফলে এই নাটকের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি মোটেও আকস্মিক ছিল না। এই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে স্বাগত জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, কোনো শিল্পীসত্তাকে খুন করার অধিকার কোনো সরকার বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নেই। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলাই গণতন্ত্র ও শিল্পের প্রকৃত সৌন্দর্য। নাটকের মাধ্যমে এই মুক্ত চিন্তার প্রকাশ জারি থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

কলকাতায় আধুনিক নাট্যচর্চা কেন্দ্র

এই সাংস্কৃতিক সৌহার্দ্যের আবহেই রাজ্যে নাট্যচর্চার প্রসারে এক বড়সড় ইঙ্গিত দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানান, পুণের ফিল্ম ইনস্টিটিউটের আদলেই এবার কলকাতায় গড়ে তোলা হবে একটি আধুনিক নাট্যচর্চা কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে তরুণ বয়সে নাটকের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এই শিল্পের প্রতি তাঁর বিশেষ নজর রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এই আধুনিক নাট্যচর্চা কেন্দ্র নিয়ে সরকারি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

যদিও নাটক শেষে এই বিষয়ে তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে রাজনীতির চড়া সুরকে দূরে সরিয়ে রেখে দুই ভিন্ন শিবিরের নেতার এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শিল্পের প্রতি সমর্পণ বাংলা সংস্কৃতির চিরাচরিত ঐতিহ্যকেই আরও একবার পুনরুজ্জীবিত করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *