ইউরোপের মাটিতেও মোদীর মুখে বাংলার স্বাদ, প্রবাসীদের উল্লাসে মাতল নেদারল্যান্ডস
আমিরশাহি সফর শেষ করে ছ’দিনের বিদেশ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে শনিবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে প্রবাসী ভারতীয়দের এক সংবর্ধনা সভায় মুখোমুখি হতেই স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে সদ্যসমাপ্ত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোট এবং পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ। হলভর্তি মানুষের আকাশছোঁয়া উচ্ছ্বাস ও করতালি দেখেই নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে নাকি!” এর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারপর্বে জঙ্গলমহলের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ১০ টাকার ঝালমুড়ি খাওয়ার সেই চেনা চটপটা স্বাদ সুদূর ইউরোপের মাটিতেও পৌঁছে দিলেন তিনি।
গণতন্ত্রের জয়গান ও ঝাড়গ্রামের স্মৃতি
নেদারল্যান্ডসের মাটিতে ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের জয়গান গেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন সত্যি হলে গণতন্ত্রের উপর তাঁদের ভরসা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি শেষ হওয়া পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ নজিরবিহীন ভোটদান এবং নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। এই সাফল্যের কথা শুনে প্রবাসীরা যখন করতালিতে ফেটে পড়েন, তখনই মুচকি হেসে ঝালমুড়ির স্মৃতি উস্কে দেন মোদী। উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী সভা শেষে হেলিপ্যাডের দিকে যাওয়ার সময় আচমকা কনভয় থামিয়ে রাস্তার ধারের বিক্রেতার কাছ থেকে ১০ টাকা দিয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক তাৎপর্য
প্রধানমন্ত্রীর সেই ঝালমুড়ি খাওয়াকে সে সময় ‘নাটক’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। পাল্টা জবাবে মোদী বলেছিলেন যে তিনি ঝালমুড়ি খেয়েছেন, কিন্তু ঝাল লেগেছে তৃণমূলের। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাস্তবেই গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের রাজ্যের মোড়ে মোড়ে ঝালমুড়ি ও লাড্ডু বিতরণ করতে দেখা গিয়েছিল। নেদারল্যান্ডসের প্রবাসীদের এই উচ্ছ্বাস প্রমাণ করে দিল, বাংলার সেই রাজনৈতিক তরজা ও লোকপ্রিয় অনুষঙ্গ দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন আন্তর্জাতিক স্তরেও সমান চর্চিত। আমিরশাহি ও নেদারল্যান্ডস পর্ব চুকিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী গন্তব্য নরওয়ে, সুইডেন এবং ইতালি হলেও, ইউরোপ সফরের শুরুতেই বিদেশের মাটিতে বাংলার এই প্রসঙ্গের অবতারণা রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।