এক শতাব্দী পর পুনরুদ্ধার হলো ইতিহাস, নেদারল্যান্ডস থেকে ভারতে ফিরল চোল যুগের অমূল্য তাম্রলিপি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেদারল্যান্ডস সফরে ভারতের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় যুক্ত হলো। ঔপনিবেশিক আমলে ভারত থেকে খোয়া যাওয়া এক হাজার বছরেরও বেশি পুরনো চোল যুগের ‘আনাইমঙ্গলম কপার প্লেটস’ বা আনাইমঙ্গলম তাম্রলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে ডাচ সরকার। নেদারল্যান্ডসে দীর্ঘ দিন ধরে ‘লাইডেন প্লেটস’ নামে পরিচিত এবং লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত এই দুর্লভ প্রত্নসম্পদটি ফেরত আনতে ভারত সরকার, নেদারল্যান্ডস সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনা চলছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হওয়ায় এটিকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বড় জয় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ভারত-ডাচ সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
এই তাম্রলিপিগুলি চোল সাম্রাজ্যের অন্যতম পরাক্রমশালী সম্রাট প্রথম রাজরাজা চোলের (৯৮৫-১০১৪ খ্রিস্টাব্দ) আমলের। মোট ২১টি বড় প্লেটের এই সেটটি তামিল সংস্কৃতির পাশাপাশি প্রাচীন ভারতের বৈদেশিক সম্পর্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রীবিজয় সাম্রাজ্যের শাসক কর্তৃক নাগাপট্টিনমে নির্মিত ‘চূড়ামণি বিহার’-এর জন্য ভূমি-রাজস্ব ও কর দানের বিশদ বিবরণ রয়েছে। এই নিদর্শনটি প্রমাণ করে যে প্রাচীনকালে চোল শাসকেরা কেবল নিজ ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রচার করেননি, বরং বৌদ্ধ বিহারের উন্নয়নেও সমান পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন, যা তৎকালীন ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও উন্নত সামুদ্রিক বাণিজ্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
কূটনৈতিক প্রভাব ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঐতিহাসিক নিদর্শনের প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের কূটনৈতিক সক্ষমতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করল। নেদারল্যান্ডসের এই পদক্ষেপ অন্যান্য দেশের কাছেও ঔপনিবেশিক আমলে নিয়ে যাওয়া প্রত্নসম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এর ফলে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যেমন মজবুত হবে, তেমনই ভারতের গবেষক ও ইতিহাসবিদদের জন্য চোল আমলের সামুদ্রিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে ভারতের প্রাচীন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগ নিয়ে গবেষণার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।