নন্দীগ্রামের মাটি কামড়েই উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জোড়া আসনে জয়ের পর ভবানীপুরকে নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এই আবহে শনিবার রাতে হঠাৎই নন্দীগ্রামে পৌঁছে এক ম্যারাথন বৈঠক সারলেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় দলীয় কর্মসূচি শেষ করেই তিনি সোজা চলে যান নন্দীগ্রামে, যেখানে স্থানীয় নেতৃত্ব ও বিধায়কদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকের নেপথ্যে রয়েছে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করার আগাম কৌশল।

মূলত উন্নয়ন ও সংগঠনকে অগ্রাধিকার

বৈঠক শেষে স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উপনির্বাচনের দিনক্ষণ বা প্রার্থীপদ নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নন্দীগ্রামের এই বৈঠক প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, বিশেষ করে নদীবাঁধের ভাঙন রোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্যা নিয়ন্ত্রণের মতো জনমুখী প্রকল্পগুলোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসন ও দলের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

আগামী লড়াইয়ের রোডম্যাপ তৈরি

উপনির্বাচন হতে এখনও মাস চারেক সময় বাকি থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী দলীয় কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যেন জনসংযোগ ও বুথ স্তরের কাজ এখনই জোরদার করা হয়। ভোট মিটে গেলেও সংগঠনকে বসিয়ে না রেখে মাঠে নেমে কাজ করার এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়লেও এই হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রটি হাতছাড়া করতে চাইছে না শাসকদল। সে কারণেই উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অনেক আগেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে চলেছে আগামী দিনের নির্বাচনী সমীকরণে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *