১০০ কোটির মানহানির মামলার মুখে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস!
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পরই রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিলেন ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে কলকাতায় আনার মূল কারিগর কোন্নগরের এই ব্যবসায়ী প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করতে চলেছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে দেখার আয়োজনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খলার জেরে শতদ্রুকে ৩৮ দিন জেল খাটতে হয়েছিল। এবার জেল থেকে মুক্ত হয়েই তিনি এই আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিশৃঙ্খলা ও বলির পাঁঠা বানানোর অভিযোগ
শতদ্রু দত্তের অভিযোগ, যুবভারতীর ওই মেগা ইভেন্টে নির্দিষ্ট সীমার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ‘ইনসাইড ফেন্সিং’ ও ‘ক্লোজ প্রক্সিমিটি’ কার্ড ইস্যু করার জন্য তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস তাঁর ওপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। নিয়মের বাইরে কার্ড দেওয়া সম্ভব নয় জানানোর পরেও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়। এই বিষয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে ই-মেল করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে সাধারণ দর্শক টিকিট কেটেও প্রিয় তারকাকে দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান এবং পুরো দায় চাপিয়ে শতদ্রুকে বলির পাঁঠা বানিয়ে জেলে পাঠানো হয়। এর আগে পরিবারকে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়ায় তিনি মুখ খুলতে পারেননি বলে জানান।
ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাব ও আগামী দিনের পরিকল্পনা
এই ঘটনার জেরে বিশ্বমঞ্চে শতদ্রু দত্তের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়নি, বরং দেশের মানুষ প্রকৃত সত্য জানতে পেরেছে। জেল থেকে মুক্তির পর দুটি রাজ্যে তাঁকে সম্মানিতও করা হয়েছে। শতদ্রু ঘোষণা করেছেন, মানহানির মামলায় জয়ী হলে সেই ১০০ কোটি টাকা তিনি টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে না পাওয়া বঞ্চিত ও হতাশ দর্শকদের মধ্যে বিলিয়ে দেবেন। একই সঙ্গে এই বিশৃঙ্খল ঘটনায় অরূপ বিশ্বাস ও তৎকালীন পুলিশ কর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি তুলেছেন তিনি। তবে এই আইনি লড়াইয়ের মাঝেই তিনি লিওনেল মেসির বাবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং ভবিষ্যতে মেসিকে আবারও কলকাতায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।