সন্তান বেশি হলেই মিলবে আর্থিক পুরস্কার, জনসংখ্যা বাড়াতে অন্ধ্র সরকারের নজিরবিহীন প্রকল্প!
দেশজুড়ে যখন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা চর্চা চলছে, ঠিক তখনই উল্টো পথে হেঁটে রাজ্যের জন্মহার বাড়াতে এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করল অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। দম্পতিদের বেশি সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করতে এবার সরাসরি আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। নতুন এই সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনও দম্পতি তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলে সরকার তাঁদের ৩০ হাজার টাকা এবং চতুর্থ সন্তানের ক্ষেত্রে ৪০ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার প্রদান করবে। এর আগে গত মার্চ মাসে দ্বিতীয় সন্তানের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির নেপথ্যে আসল কারণ
অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি অত্যন্ত সফলভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর ফলে অন্ধ্রপ্রদেশে বর্তমান জন্মহার জাতীয় গড়ের (২.১১) চেয়ে অনেকটাই কমে ১.৫-এ নেমে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর প্রধান উদ্বেগ মূলত কেন্দ্রের আসন্ন লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে। জনসংখ্যা কম থাকার কারণে আসন পুনর্বিন্যাসের পর উত্তরের রাজ্যগুলির তুলনায় দক্ষিণের রাজ্যগুলি রাজনৈতিক গুরুত্ব ও কেন্দ্রীয় বরাদ্দের ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হতে পারে। এই রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই মূলত জন্মহার বাড়ানোর এই মরিয়া চেষ্টা।
সামাজিক মানসিকতা বদলের চেষ্টা
আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার পাশাপাশি মানুষের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছে অন্ধ্র প্রশাসন। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, বর্তমানে অধিকাংশ পরিবার একটি মাত্র সন্তান নেওয়ার দিকে ঝুঁকছে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রথম সন্তান পুত্র না হলেই কেবল দ্বিতীয় সন্তান নেওয়া হচ্ছে। সন্তানকে ‘বোঝা’ মনে করার এই মানসিকতা থেকে জনগণকে বের করে আনতে চাইছে সরকার।
এই প্রকল্পের ফলে আগামী দিনে রাজ্যে জন্মহার কতটা বৃদ্ধি পায় এবং তা দক্ষিণের রাজ্যগুলির রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় কতটা ভূমিকা রাখে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।