আর জি কর কাণ্ডে ফের বিস্ফোরণ! তদন্তের নিশানায় সিবিআই অফিসার সীমাকে চান অভিজিৎ
আর জি কর কাণ্ডে এবার খোদ সিবিআই আধিকারিকের দিকেই উঠল আঙুল! তদন্তের মোড় ঘোরানো দাবি নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে হাজির হলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের যে অংশে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল, শনিবার সেখানে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মূল আধিকারিক সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
প্রমাণ লোপাটের মারাত্মক অভিযোগ
সরাসরি সিবিআই অফিসার সীমা পাহুজাকে তদন্তের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, তদন্ত প্রক্রিয়ায় দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়েছেন ওই সিবিআই আধিকারিক। প্রথমত, হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘর দীর্ঘ প্রায় দু’বছর ধরে তালাবন্ধ এবং সিল করা অবস্থায় রয়েছে, যেখান থেকে অপরাধ সংক্রান্ত একাধিক বড় তথ্য বা প্রমাণ মেলার সম্ভাবনা ছিল। অথচ সিবিআইয়ের ওই কর্তা সেই ঘরটি খোলার কোনো উদ্যোগই নেননি।
দ্বিতীয় মারাত্মক অভিযোগটি এসেছে একটি ভিডিও ফুটেজকে কেন্দ্র করে। সাংসদের দাবি, ঘটনার রাতে একটি নির্দিষ্ট সিঁড়ি দিয়ে একটি মরদেহ নামানোর সময় এক নার্স ভিডিও ধারণ করেছিলেন। অভিযোগ, সীমা পাহুজা সেই ভিডিওটি নিজের হেফাজতে নিয়ে নেন এবং সংশ্লিষ্ট নার্সকে প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য চাপ দেন। এরপর থেকে সেই ভিডিওর আর কোনো হদিস মেলেনি। এই পদক্ষেপকে সরাসরি তথ্য গোপন ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন প্রাক্তন বিচারপতি।
প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, সিবিআই একটি বৃহৎ ও দক্ষ সংস্থা হলেও এই নির্দিষ্ট অফিসারের নিষ্ক্রিয়তা এবং সন্দেহজনক ভূমিকা পুরো সংস্থার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তিনি কার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই কাজ করেছেন, তা খুঁজে বের করতে সীমা পাহুজাকেই এবার অভিযুক্ত হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
রাজ্যে প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের পর আর জি কর মামলার ফাইল নতুন করে খুলতেই এই বিতর্কিত অধ্যায়টি সামনে এল। ইতিপূর্বেই ঘটনার সময়ে দায়িত্বে থাকা তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্যাতিতার পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতা হাই কোর্টে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ও বিচারপতি শম্পা সরকারের সমন্বয়ে একটি বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চও গঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক ও আইনি মহলের ধারণা, সিবিআই আধিকারিকের বিরুদ্ধে ওঠা এই নতুন অভিযোগ আদালতের আগামী শুনানিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড় এনে দিতে পারে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাতে পারে।