মন্দিরে ঢোকার ‘অপরাধে’ নারীকে অর্ধনগ্ন করে জুতোর মালা পরাল মাতব্বররা!

মহারাষ্ট্রের উলহাসনগরের ওয়াঘরি এলাকায় একবিংশ শতাব্দীতেও একবিংশ শতকের কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো। স্থানীয় পঞ্চায়েতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মন্দিরে প্রবেশ করায় এক নারীকে অর্ধনগ্ন করে, চুল কেটে এবং গলায় জুতোর মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে। মধ্যযুগীয় এই বর্বরতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সামাজিক বয়কট ও বর্বরোচিত হামলার নেপথ্য কারণ

ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় পঞ্চায়েতের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, কিছু অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে স্থানীয় একটি রাজপুত পরিবারকে সমাজচ্যুত বা একঘরে করার ফতোয়া দিয়েছিল পঞ্চায়েত। একই সঙ্গে তাদের স্থানীয় মন্দিরে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারটি এই অন্যায্য ফতোয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

ঘটনার দিন মন্দিরে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ভোজের আয়োজন চলাকালীন ওই পরিবারের এক যুবক সেখানে উপস্থিত হয়ে পঞ্চায়েতের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ করেন এবং জোরপূর্বক মন্দিরে প্রবেশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্যরা। যুবকটি বাড়ি ফেরার পরপরই অভিযুক্তরা লাঠি ও রড নিয়ে ওই পরিবারের ওপর চড়াও হয় এবং ব্যাপক মারধর করে।

নৃশংসতা ও আইন অমান্য করার চরম প্রভাব

শারীরিক নির্যাতনের পর ভুক্তভোগী কান্তা প্রেম রাজপুত (৫০), তাঁর বোন ও মেয়েকে নিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পথিমধ্যে তাঁদের ওপর আবারও চড়াও হয় হামলাকারীরা। পুলিশে অভিযোগ করার ‘শাস্তি’ হিসেবে নারীদের পোশাক ছিঁড়ে অর্ধনগ্ন করা হয়, চুল কেটে নেওয়া হয় এবং গলায় জুতোর মালা পরিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা হাঁটানো হয়। এমনকি প্রকাশ্য রাস্তায় অভিযুক্তদের পা ছুঁয়ে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করা হয় তাঁদের।

এই বর্বরোচিত ঘটনা আধুনিক সমাজে আইনের শাসন ও নারী নিরাপত্তার ওপর এক বড় আঘাত। পঞ্চায়েত বা মাতব্বরদের সমান্তরাল আইনি ব্যবস্থা যে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। বর্তমানে আক্রান্ত পরিবারটি চরম ট্রমার মধ্যে রয়েছে এবং এলাকায় এক ধরনের সামাজিক বিভাজন তৈরি হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। মূল অভিযুক্তসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও অনেকেই এখনও পলাতক। পুলিশ পলাতকদের গ্রেপ্তারে তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *