প্রেমের পাত্র বদলে গেল বিয়ের পিঁড়িতে, কনের আপত্তিতে রণক্ষেত্র বিয়ের আসর!

সমাজমাধ্যমে আলাপ, প্রেম এবং তারপর বিয়ের সানাই। কিন্তু বিয়ের মূল আচার শুরু হতেই বাঁধল মহাবিপত্তি। বরের মুখ দেখামাত্রই বিয়ের পিঁড়িতে বেঁকে বসলেন কনে। তাঁর সাফ দাবি, সমাজমাধ্যমে যে পাত্রকে দেখে তিনি ভালোবেসেছিলেন, এই ব্যক্তি সেই আসল প্রেমিক নন। পাত্র বদলে অন্য কাউকে তাঁর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের হরদোই জেলার শাহাবাদ থানা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, যা নিয়ে এলাকায় তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ডিজিটাল প্রেমের আড়ালে জালিয়াতি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাবাদের বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে সমাজমাধ্যমে ভোপালের বাসিন্দা রাহুল মিশ্র নামের এক যুবকের পরিচয় হয়েছিল। ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক প্রেমের রূপ নেয় এবং দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়। কনের দাবি, কিছুদিন আগে রাহুল নিজে এসে তাঁর সঙ্গে দেখাও করে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের দিন যখন বর ছাদনাতলায় আসেন, তখন তাঁর চেহারা দেখে কনের সন্দেহ হয়। সাত পাক ঘোরার আগেই কনে নিশ্চিত হন যে এই ব্যক্তি তাঁর প্রেমিক রাহুল নন। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে আসল সত্যি। বরবেশী ওই যুবক নিজের নাম দেবেন্দ্র সিংহ বলে স্বীকার করেন।

হাতাহাতি ও পুলিশের হস্তক্ষেপ

প্রেমিকের বদলে অন্য পাত্রকে দেখে কনে তৎক্ষণাৎ বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এই ঘটনা প্রকাশ্য আসতেই বিয়ের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে পরিণত হয়। কনেপক্ষের প্রতারিত হওয়ার ক্ষোভ এবং বরপক্ষের সাফাইকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের রূপ নেয়। উত্তেজিত কনেপক্ষ বর দেবেন্দ্র সিংহ এবং তাঁর সঙ্গে আসা নয়জন বরযাত্রীকে আটকে রেখে সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

যদিও অভিযুক্ত দেবেন্দ্রর দাবি, তরুণী সমাজমাধ্যমে তাঁর সঙ্গেই যোগাযোগ রাখতেন এবং তিনিই আসল ব্যক্তি। পুলিশ আপাতত বরসহ বরযাত্রীদের আটকে রেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সমাজমাধ্যমের পরিচিতিকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা এবং বিয়ের আগে পাত্রের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিচয় ভালোভাবে যাচাই না করার কারণেই এই চরম বিভ্রান্তি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *