এক সপ্তাহে কাজের খতিয়ান প্রকাশ করে চমক দিল শুভেন্দু সরকার!

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের পর প্রথম এক সপ্তাহেই একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করল পদ্মশিবির। রবীন্দ্রজয়ন্তীতে শপথ নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যের নতুন সরকার একাধিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্প চালুর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের থমকে থাকা প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোমূলক কাজে গতি এনেছে। সরকার ও দলের পক্ষ থেকে এই স্বল্প সময়ের সাফল্যকে ‘ডবল ইঞ্জিন’ মডেলের ইতিবাচক প্রভাব হিসেবেই দাবি করা হচ্ছে।

একগুচ্ছ সামাজিক প্রকল্প ও পরিকাঠামোয় গতি

নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আগামী ১ জুন থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্পের সূচনা, যার মাধ্যমে মহিলারা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। একই সঙ্গে ওই দিন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে সফরের সুবিধাও চালু হচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে বার্ধক্য ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা দ্বিগুণ করে ২০০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ শুরু হওয়া এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সহযোগিতা ও প্রশাসনিক সংস্কার

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরে রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা আসতে শুরু করেছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্তি ছাড়াও রেল মন্ত্রকের তরফে তিনটি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন মিলেছে। এর মধ্যে নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি ডবল লাইন, শালবনি-আদ্রা তৃতীয় লাইনের সমীক্ষা এবং সাঁতরাগাছি-জয়পুর বিশেষ এক্সপ্রেস ট্রেন অন্যতম। প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা আনতে ২০১১ সালের পর থেকে ইস্যু হওয়া সমস্ত জাতিগত শংসাপত্র পুনরায় যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি, থমকে থাকা ‘ডব্লিউবিসিএস এগ্‌জিকিউটিভ’ পরীক্ষা দ্রুত আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং রাজ্যের সব সরকারি স্কুলে প্রার্থনা সঙ্গীতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমনে কড়া পদক্ষেপ

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতি দমনে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের গতি বাড়াতে সবুজসঙ্কেত দেওয়া হয়েছে। গত এক সপ্তাহে পুরনিয়োগ মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু, কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ এবং ‘বাংলা পক্ষ’-র প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির ঘটনাকে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে শাসকদল। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অতিরিক্ত সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের ওপরেও। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম সপ্তাহের এই মারমুখী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নতুন সরকার রাজ্যে নিজেদের শাসনব্যবস্থার স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *