ইডেনে কেকেআরের রুদ্রমূর্তি, ২২ ছক্কায় উড়ে গেল গুজরাত

ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে ফিরতেই স্বমহিমায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। শনিবার গুজরাত টাইটান্সকে ২৯ রানে হারিয়ে আইপিএলের প্লে-অফের দৌড়ে দুর্দান্তভাবে টিকে থাকল নাইটরা। ফিন অ্যালেন, অঙ্গকৃশ রঘুবংশী এবং ক্যামেরন গ্রিনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে প্রথমে ব্যাট করে কেকেআর তুলেছিল ২৪৭/২। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ২১৮/৩ স্কোরে থমকে যায় গুজরাত টাইটান্স। এই জয়ের ফলে ৯ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে দিল্লিকে টপকে লিগ টেবিলের সপ্তম স্থানে উঠে এল কলকাতা।
ফিল্ডিং ও বোলিংয়ের চরম ব্যর্থতা ডুবাল গুজরাতকে
ম্যাচের শুরুতে কলকাতার ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছিল স্কোর ১৮০-১৯০ রানের আশেপাশে থমকে যাবে। কিন্তু ফিন অ্যালেন হাত খুলতেই ম্যাচের রং বদলে যায়। অফ ফর্ম কাটিয়ে দলে ফেরা অ্যালেন মাত্র ১০টি ছয়ের সাহায্যে ৯৩ রানের একটি টর্নেডো ইনিংস খেলেন। এরপর বাকি কাজটুকু সারেন তরুণ অঙ্গকৃশ রঘুবংশী (৪৪ বলে অপরাজিত ৮২) এবং ক্যামেরন গ্রিন (২৮ বলে ৫২)। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের ১০৮ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি কেকেআরের বিশাল স্কোর নিশ্চিত করে।
গুজরাতের এই হারের প্রধান কারণ তাদের জঘন্য ফিল্ডিং এবং দিশাহীন বোলিং। টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে ইডেনে আসা গুজরাত এদিন ফিল্ডিংয়ে একের পর এক ক্যাচ মিসের মহড়া দিল। দু’বার জীবনদান পান অ্যালেন, পরে ক্যাচ পড়ে গ্রিন ও রঘুবংশীরও। অন্যদিকে মহম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাডা ও রশিদ খানের মতো তারকা বোলাররা কলকাতার ব্যাটারদের সামনে সম্পূর্ণ লাইন-লেংথ হারিয়ে বসেন। একমাত্র জেসন হোল্ডার ছাড়া বাকি সব বোলারই ওভার প্রতি ১০-এর বেশি রান খরচ করেন।
প্লে-অফের সমীকরণ ও নারাইন ম্যাজিক
বিশাল রান তাড়া করতে নেমে গুজরাতের পক্ষে শুভমন গিল ও জস বাটলার আপ্রাণ লড়াই করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। কলকাতার বোলারদের মধ্যে আলাদা করে নজর কাড়লেন অভিজ্ঞ সুনীল নারাইন। কেকেআরের হয়ে নিজের ২০০তম ম্যাচে ৩৭ বছর বয়সী এই স্পিনার ৪ ওভারে মাত্র ২৯ রান দিয়ে তুলে নেন শুভমন গিলসহ ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
এই জয়ের ফলে কলকাতার প্লে-অফে যাওয়ার আশা উজ্জ্বল রইল, তবে শেষ চারে পৌঁছাতে হলে নিজেদের বাকি দুটি ম্যাচেও জিততে হবে নাইটদের। অন্যদিকে, বোলারদের ব্যর্থতা ও ক্যাচ ফেলার খেসারত দিয়ে লিগ টেবিলে ধাক্কা খেল গুজরাত টাইটান্স।