দালালরাজ মুক্ত বাংলার সরকারি হাসপাতাল, ঐতিহাসিক পদক্ষেপে স্বস্তিতে রোগী ও অ্যাম্বুলেন্স চালকরা

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা—সর্বত্র স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জারি হয়েছে কড়া নির্দেশিকা। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে চলা সিন্ডিকেট ও দালালরাজ পুরোপুরি বন্ধ হতে চলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্স চালকরাও।

অ্যাম্বুলেন্সে জিপিএস ও অ্যাপের কড়া নজরদারি

রোগী পরিবহনে দালালদের দৌরাত্ম্য রুখতে এবার প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে জিপিএস ট্র্যাকার লাগানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এবং একটি নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রোগীর পরিবার সরাসরি অ্যাম্বুলেন্স বুক করতে পারবেন। এর ফলে মাঝখান থেকে দালালদের কমিশন নেওয়ার রাস্তা চিরতরে বন্ধ হবে। সরাসরি বুকিংয়ের সুবিধা পাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। চালকদের একাংশের মতে, আগে যে দূরত্বের জন্য ৫০০ টাকা গুনতে হতো, এখন ভায়া মাধ্যম না থাকায় তা ৪০০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব। এই সিদ্ধান্তের ফলে যেমন সাধারণ মানুষের পকেটের টান কমবে, তেমনই চালকরাও কোনো ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি বুকিং পাবেন।

ডিজিটাল মনিটরিং ও বেডের রিয়েল টাইম তথ্য

শুধু অ্যাম্বুলেন্স নয়, সরকারি হাসপাতালগুলির অন্দরে শয্যা পাওয়া নিয়ে যে কালোবাজারি চলত, তা রুখতেও কড়া দাওয়াই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের খালি বেড সংক্রান্ত সঠিক ও রিয়েল টাইম তথ্য পেতে এবার বসানো হচ্ছে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত হবে একটি সেন্ট্রালি মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি হাসপাতালে বেডের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রোগীদের সুবিধার্থে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সাহায্য নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সহ বিভিন্ন বড় সরকারি হাসপাতালে ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিয়স্ক বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে চরম হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন। বেড খালি আছে কিনা তা জানতে এখন আর কোনো দালালের ওপর নির্ভর করতে হবে না, যা গ্রামীণ ও দূরদূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র রোগীদের জন্য এক বিশাল স্বস্তি এনে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *