বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকারের ছোঁয়া, অবশেষে চালু হচ্ছে জাতীয় শিক্ষানীতি

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো। দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্যে চালু হতে চলেছে জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি ২০২০)। এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এবং রাজ্য শিক্ষা বিভাগের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে এই শিক্ষানীতি রূপায়ণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে অনীহা ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল, নতুন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসতেই তার অবসান ঘটল।

ব্লকে ব্লকে গড়ে উঠবে পিএমশ্রী স্কুল

এই চুক্তির হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে ‘পিএমশ্রী’ (প্রধানমন্ত্রী স্কুলস ফর রাইজিং ইন্ডিয়া) প্রকল্প। গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যে এই প্রকল্প চালু করা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে টালবাহানা চলছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি করে স্কুলকে পিএমশ্রী প্রকল্পের আওতাভুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই স্কুলগুলি সরাসরি কেন্দ্রের বিশেষ আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সহযোগিতা পাবে, যা রাজ্যের সামগ্রিক সরকারি স্কুল শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষায় আধুনিকীকরণ ও কর্মসংস্থানের নতুন দিশা

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর না করে বিকল্প রাজ্য শিক্ষানীতি তৈরির পথে হেঁটেছিল পূর্বতন সরকার। তবে নতুন এই চুক্তির পর কেন্দ্রের দাবি, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, নমনীয় এবং কর্মমুখী করে তোলাই এই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য। এটি বাংলার ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে। স্কুল পর্যায় থেকেই ছাত্রছাত্রীদের বাস্তবমুখী ও হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হবে এখানে।

এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানান, এটি মূলত ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল, যা রাজ্যের শিক্ষার্থীরা পেতে চলেছে। পিএমশ্রী স্কুলের মাধ্যমে সরকারি বিদ্যালয়গুলি বিশেষ আর্থিক অনুদান পাবে। এছাড়া, জাতীয় শিক্ষানীতি চালুর ফলে শিক্ষার্থীরা পরিবর্তনশীল বিশ্বের উপযোগী হয়ে উঠবে এবং হাতে-কলমে কাজ শেখার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের আরও বেশি যোগ্য ও আত্মনির্ভর করে তুলতে পারবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *