মাঝরাতেই বুলডোজার অ্যাকশন, হুলুস্থুল হাওড়া স্টেশনে দেড়শো অবৈধ দোকান উচ্ছেদ

শনিবার রাতে এক নজিরবিহীন অভিযানের সাক্ষী থাকল হাওড়া স্টেশন চত্বর। বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং আরপিএফকে সঙ্গে নিয়ে মাঝরাতে উচ্ছেদ অভিযানে নামে রেল প্রশাসন। একের পর এক বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্টেশনের বাইরে ফুটপাথ ও রাস্তার ধারে থাকা ১৫০টিরও বেশি অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী পরিকাঠামো। আচমকা এই বুলডোজার অ্যাকশনে গোটা স্টেশন চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এবং ভিড় জমে যায়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ অত্যন্ত কড়া মনোভাব প্রদর্শন করে।

মাইক হাতে পুলিশকে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করতে শোনা যায় যে সেখানে কোনও নাটক হচ্ছে না এবং যাত্রীদের ভিড় না করে নিজেদের গন্তব্যে রওনা হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনকে তার কাজ করতে দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে কড়া বার্তা দেয় পুলিশ বাহিনী।

উচ্ছেদের কারণ ও প্রতিক্রিয়া

রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে হাওড়া স্টেশনের বাইরের ফুটপাথ ও রাস্তা এই সমস্ত অস্থায়ী দোকানপাটের দখলে ছিল। এর ফলে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ রেলযাত্রীকে স্টেশনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। স্টেশন চত্বরকে যানজটমুক্ত করতে এবং যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতেই এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অভিযানের ঠিক একদিন আগেই রেলের তরফ থেকে এলাকা খালি করার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। নোটিস পেয়ে অনেকেই তাঁদের মালামাল ও ডালা আগেই সরিয়ে নিতে সক্ষম হন।

সম্ভাব্য প্রভাব

এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে হাওড়া স্টেশন চত্বরের দীর্ঘদিনের চেনা ছবিটা অনেকটাই বদলে গেছে। রাস্তা ও ফুটপাথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হওয়ায় এখন থেকে সাধারণ যাত্রীরা অনেক সহজে এবং স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। যাত্রীদের একটি বড় অংশ প্রশাসনের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এই অভিযানের কারণে এক রাতে দেড় শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের জীবিকা হারানোয় স্টেশন চত্বরের পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *