বিল্ডিং প্ল্যান জালিয়াতির পুরনো ফাইলে এবার টান, দিনহাটায় গ্রেফতার উদয়ন ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রী

কোচবিহারের দিনহাটা পৌরসভায় কোটি কোটি টাকার বিল্ডিং প্ল্যান জালিয়াতি মামলায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় এল। দীর্ঘদিন ঠান্ডা ঘরে পড়ে থাকার পর, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই মামলার ফাইল পুনরায় খুলতেই গ্রেফতার হলেন প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রী তথা পৌরকর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্য। শনিবার অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে দিনহাটা পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপ্রধান গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরীর বাড়িতেও ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।

তদন্তের নেপথ্যে ও পুরনো জালিয়াতি

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর, যখন দিনহাটা পৌরসভার বিল্ডিং প্ল্যান পাশে বড়সড় জালিয়াতির অভিযোগ এনে দিনহাটা থানায় প্রথম অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মোট ১৭টি বিল্ডিং প্ল্যান পাসের ক্ষেত্রে ব্যাপক জালিয়াতি ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। এই জালিয়াতি চক্রে পৌরসভার তৎকালীন পদস্থ কর্মকর্তা, ইঞ্জিনিয়ার ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম জড়িয়ে পড়ে। এর আগে এই মামলায় পৌরসভার কর্মচারী উত্তম চক্রবর্তী, ইঞ্জিনিয়ার অর্কপ্রভ দাশগুপ্ত ও হরি বর্মন গ্রেফতার হয়েছিলেন। তবে তাঁরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

স্থবির মামলা গতি পেল ক্ষমতার পরিবর্তনে

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, জালিয়াতি হওয়া প্ল্যানগুলোতে প্রাক্তন পৌরপ্রধান গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরীর সই ছিল। সেই সইগুলো আসল নাকি জাল, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে একটা সময় মামলার গতি কার্যত থমকে গিয়েছিল। তবে রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই এই দুর্নীতির ফাইল নতুন করে খোলা হয়। ফরেনসিক রিপোর্টের সূত্র ধরে এবং সংগৃহীত স্বাক্ষরের নমুনা মিলিয়ে দেখার পরই পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পায়, যার জেরে শনিবার প্রথমে মৌমিতা ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার এবং পরবর্তীতে প্রাক্তন পৌরপ্রধানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

পৌরসভার ভেতরের প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ ছাড়া এই ধরণের বড় মাপের জালিয়াতি অসম্ভব বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই গ্রেফতারির পর দিনহাটার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ধৃত নেত্রী ও প্রাক্তন পৌরপ্রধানের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে এই জালিয়াতি চক্রে যুক্ত থাকা বাকি প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে, যা আগামী দিনে কোচবিহারের স্থানীয় রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *