জ্বালানির বিশ্ববাজারে আগুন, কলকাতায় সেঞ্চুরি পার করে হু হু করে বাড়ছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৫১ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেলের বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি উপসাগরীয় দেশগুলিতে অপরিশোধিত তেলের দাম যেখানে ছিল ব্যারেল প্রতি ৭২.৪৮ ডলার, বর্তমানে তা প্রায় ৫১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৯.২৬ ডলারে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি পার করায় তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের বাজারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা করে বাড়িয়েছে।

মেট্রো শহরগুলিতে জ্বালানির দর

ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৮.৭৪ টাকা এবং ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ৯৫.১৩ টাকায়। দেশের অন্যান্য প্রান্তেও জ্বালানির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। রাজধানী নয়া দিল্লিতে পেট্রোল প্রতি লিটার ৯৭.৭৭ টাকা এবং ডিজেল ৯০.৬৭ টাকা। বাণিজ্য নগরী মুম্বাইতে পেট্রোল প্রতি লিটার ১০৬.৬৮ টাকা এবং ডিজেল ৯৩.১৪ টাকা। এছাড়া চেন্নাইয়ে পেট্রোল প্রতি লিটার ১০৩.৬৭ টাকা এবং ডিজেল ৯৫.২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

টাকার পতন ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দরের লাগাতার পতন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতে যেখানে ১ ডলারের মূল্য ছিল ৯১.০৮ টাকা, তা মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে পৌঁছেছে ৯৫.৮১ টাকায়। অর্থাৎ ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার মূল্য ৫.১৯ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের নিরিখে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং অন্যদিকে টাকার অবমূল্যায়ন—এই জোড়া ফলায় দেশের রাজকোষ ও অর্থনীতির ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির যদি দ্রুত উন্নতি না হয়, তবে আগামী দিনে ভারতের বাজারে জ্বালানির দাম আরও কয়েক দফায় বাড়তে পারে। পেট্রোল-ডিজেলের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে পণ্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়ে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *