রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় বদলের ইঙ্গিত, ফিরতে পারে পাশ-ফেল প্রথা!

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক স্তরে পুনরায় পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকাকে মাথায় রেখে রাজ্যের নতুন প্রশাসন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে এই প্রথা চালুর বিষয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলে।
শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বৈঠক ও নতুন রূপরেখা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব স্বপন দাশগুপ্ত আলোচনা শুরু করেছেন। দলের শিক্ষা জগতের সঙ্গে যুক্ত বিধায়ক এবং রাজ্যের প্রথম সারির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের বিষয়টি মাথায় রেখেই একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে, যা দ্রুত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় নীতি ও রাজ্যের সম্ভাব্য পদক্ষেপ
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক ২০২৪ সালের শেষভাগে শিক্ষার অধিকার আইনে সংশোধনী এনে পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল প্রথা বাধ্যতামূলক করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কেন্দ্রের সেই নিয়মানুযায়ী, কোনো পড়ুয়া প্রথম দফায় অনুত্তীর্ণ হলে তাকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু তাতেও পাশ করতে না পারলে তাকে একই শ্রেণিতে পুনরায় পড়াশোনা করতে হবে। পূর্বতন সরকারের আপত্তির কারণে এতদিন বাংলায় এই নীতি কার্যকর না হলেও, বর্তমান সরকার শিক্ষার মান ফেরাতে এটি চালু করার পক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কারণ ও দূরগামী প্রভাব
পাশ-ফেল প্রথা তুলে দেওয়ার পর থেকে পড়ুয়াদের একাংশের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি উদাসীনতা এবং বুনিয়াদি শিক্ষার ভিত দুর্বল হওয়ার অভিযোগ উঠছিল দীর্ঘ দিন ধরে। প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ফিরিয়ে আনা এবং প্রাথমিক স্তরেই শিক্ষার মান নিশ্চিত করাই এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের মূল কারণ। শিক্ষাবিদদের মতে, এই প্রথা পুনরায় চালু হলে স্কুলস্তরে পঠনপাঠনের মূল্যায়ন আরও কঠোর হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য আরও যোগ্য ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।