রাজনীতির ঊর্ধ্বে শিল্প, মঞ্চে তৃণমূল সাংসদের অভিনয় দেখে মুগ্ধ বিজেপি সভাপতি শমীক

ভোটের উত্তপ্ত ময়দান হোক বা রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই, সংস্কৃতির আঙিনায় যে এখনও সৌজন্যের রাজনীতি বেঁচে রয়েছে, তার অনন্য নজির সৃষ্টি হলো কলকাতায়। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও শনিবার সন্ধ্যায় আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসে নাটক দেখতে হাজির হয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঞ্চে তখন কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচক তথা ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক অভিনয় করছেন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জীবনভিত্তিক নাটক ‘আ-শক্তি’-তে। ভিন্ন রাজনৈতিক মেরুর দুই ব্যক্তিত্বের এই মেলবন্ধন বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শিল্পীর অধিকার

উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই নাটকে পার্থ ভৌমিক এবং দেবশঙ্কর হালদারের অভিনয় দেখার পর শমীক ভট্টাচার্য গ্রিন রুমে গিয়ে শিল্পীদের অভিনন্দন জানান। এরপরই সমাজমাধ্যমে শিল্প ও শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়ে জোরালো বার্তা দেন এই বিজেপি নেতা। তিনি স্পষ্ট জানান, একজন শিল্পীর শিল্পসত্ত্বাকে খুন করার অধিকার কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা সরকারের নেই। ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে মতপ্রকাশের অধিকার দিয়েছে এবং সরকারের সমালোচনা বা বিচ্যুতি নাটক ও কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরা হলে তাতে বাধা দেওয়া উচিত নয়। যদি এই স্বাধীনতায় আঘাত আসে, তবে দেশের সংস্কৃতির মৃত্যু ঘটবে।

সৌজন্যের আবহে টলিউডের ‘ব্যান’ সংস্কৃতির সমালোচনা

বিজেপি নেতার এই অবস্থানকে পশ্চিমবঙ্গের সমসাময়িক চলচ্চিত্র ও নাট্য জগতের ‘ব্যান কালচার’ বা বয়কট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক পরোক্ষ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কার সিনেমা নন্দনে আগে মুক্তি পাবে বা কে ছবি বানাবে, তা রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত হওয়ার প্রবণতাকে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অনুরাগী হিসেবে পরিচিত শমীক ভট্টাচার্য আগেও পানিহাটির এক সভায় প্রধানমন্ত্রীকে এই কবির ছবি উপহার দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে মঞ্চের শিল্পকে সম্মান জানানোর এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এখনও সুস্থ রাজনৈতিক সৌজন্যের পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনৈতিক হিংসা ও অসহিষ্ণুতা হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *