নিউজরুমের প্রিয় ‘শ্যামদা’ আর ফিরবেন না, চিরদিনের ছুটিতে

এক লহমায় স্তব্ধ হয়ে গেল একটি চেনা হাসিমুখ। পেশাদার সাংবাদিকতার নির্মম বাস্তবতাকে ছাপিয়ে শোকের ছায়া নেমে এল আজকাল ডট ইন-এর নিউজরুমে। গত ১৫ মে, শুক্রবার গভীর রাতে আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন সংস্থার অভিজ্ঞ গ্রাফিক্স ডিজাইনার শ্যাম সুন্দর ভট্টাচার্য। বয়স হয়েছিল প্রায় ৬০ বছর। শুক্রবারও যিনি সহকর্মীদের সঙ্গে হইহই করে কাজ করেছেন, খবরের জন্য একের পর এক মনকাড়া ছবি তৈরি করে দিয়েছেন, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁর এই আকস্মিক চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহযোদ্ধারা।

চিকিৎসার মরিয়া চেষ্টা ও শেষরক্ষা

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার কাজ শেষে ফুরফুরে মেজাজেই বাড়ি ফিরেছিলেন শ্যাম সুন্দরবাবু। কিন্তু গভীর রাতে হঠাৎই তাঁর বুকে তীব্র যন্ত্রণা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সেই সময় বাইরে চলছিল প্রবল ঝড়ঝঞ্ঝা ও মুষলধারে বৃষ্টি। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই একটি সঠিক ও দ্রুত চিকিৎসার আশায় অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে কলকাতার উপকণ্ঠ থেকে শহরের দক্ষিণ ও পূর্ব প্রান্তের একাধিক হাসপাতালে ছোটাছুটি করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু প্রকৃতির দুর্যোগ আর হাসপাতালের চৌকাঠ পেরোনোর লড়াইয়ের মাঝেই চিরদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সামান্য একটু চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার আগেই পথেই শেষ হয়ে যায় সব চেষ্টা।

এক অনন্য ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের অবসান

২০২০ সাল থেকে আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শ্যাম সুন্দর ভট্টাচার্য। খাতায়-কলমে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হলেও নিউজরুমের সব স্তরের কর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ভালোবাসার একজন মানুষ। দীর্ঘদেহী এই মানুষটি জুনিয়রদের আগলে রাখতেন অপরিসীম স্নেহে। কাজের ব্যস্ততার মাঝে তাঁর রসবোধ ও চুটকি সকালের শিফটের সাংবাদিকদের ক্লান্তি দূর করে দিত। গ্রাফিক্সের কাজে কোনো পরিবর্তনের অনুরোধ এলে মুখে কৃত্রিম বিরক্তি আর ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে তাঁর চেনা সংলাপ ছিল, “ভাই, যা করেছি যথেষ্ট! আর কী কী চাই? তাজমহল, লাল কেল্লা সব ঢোকাতে হবে নাকি?” সহকর্মীদের যেকোনো আবদার বা বিপদে সবসময় বাড়িয়ে দিতেন সহযোগিতার হাত। শনিবার থেকে ছুটি নেওয়ার কথা ছিল তাঁর, কিন্তু সেই ছুটি যে ইহকালের সব মায়া কাটিয়ে সারাজীবনের ছুটি হয়ে যাবে, তা ভাবতেও পারেনি কেউ। শনিবার রাজপুর শ্মশানে শান্ত, নিস্তব্ধ পরিবেশে এই সহজ-সরল মানুষটির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তাঁর প্রস্থানে সংবাদমাধ্যমের অন্দরে তৈরি হলো এক অপূরণীয় শূন্যতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *