অনুপ্রেরণা নয় এবার কাজ, নবান্নের প্রথম বৈঠকেই আমলাদের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
রাজ্যের প্রশাসনিক খোলনলচে বদলে ফেলতে প্রথম দিন থেকেই আগ্রাসী মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে রাজ্যের শীর্ষ আমলা ও সচিবদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্র সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ সহ সমস্ত দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠকে প্রশাসনের কাজের গতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তোষামোদের সংস্কৃতি ঝেড়ে ফেলে এবার জনমুখী সরকার চালনাই মূল লক্ষ্য।
‘হ্যাঁ তে হ্যাঁ’ মেলানো বন্ধ, জোর নির্ভীক মতামতে
বৈঠকে আমলাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “আমার হ্যাঁ তে হ্যাঁ মেলাবেন না।” পূর্বতন সরকারের রাজনৈতিক স্লোগানকে কার্যত নিশানা করে তিনি বলেন, কোনো “অনুপ্রেরণা” নয়, আমলারা যেন নিজেদের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মতামত সরাসরি জানান। প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে কাজের গতি বাড়াতে এবং সমন্বয় সুদৃঢ় করতে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও মুখ্যসচিব এবং সব দপ্তরের সচিবরা থাকবেন। কোনো পরামর্শ থাকলে তা সরাসরি এবং নির্ভয়ে জানানোর স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে আমলাদের, পাশাপাশি যোগ্য সম্মান দিয়ে প্রশাসন চালানোর আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তবে কাজে কোনো ভুল বা গাফিলতি হলে যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু ও স্বচ্ছ নিয়োগে অগ্রাধিকার
রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো দ্রুত চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় ফান্ড যাতে তাড়াতাড়ি রিলিজ হয়, সরকার তা নিশ্চিত করবে জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখন কথা কম, কাজ বেশি।” একই সাথে বিজেপির সংকল্প পত্রের প্রতিশ্রুতিগুলো এক এক করে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি। বিভিন্ন দপ্তরে থমকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সমস্ত নিয়োগ এবার থেকে সম্পূর্ণ আইন মেনে এবং কেন্দ্রের ‘ডিওপিটি’ (DoPT) রুল বুক অনুসরণ করে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা সচিবকে নির্দেশ দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই হবে।
প্রশাসনের সম্ভাব্য ভোলবদল
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া ও নিয়মতান্ত্রিক বার্তার পেছনে রয়েছে রাজ্যে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং আমলাতন্ত্রের ওপর থেকে রাজনৈতিক চাপ কমানোর প্রয়াস। “ভয় না পেয়ে কাজ করে যান, আমি সঙ্গে আছি”— মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাস আমলাদের মনোবল বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নিয়ম ও রুল বুক মেনে কাজ করার এই নির্দেশিকার ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে দীর্ঘদিনের লালফিতের ফাঁশ কাটবে এবং থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া গতি পাবে। একই সাথে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করার যে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তা রাজ্যের আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।