বেতন মিললেও ভবিষ্যতের আশঙ্কায় কাঁঁপছেন সিভিক ভলান্টিয়াররা, নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে ঝুলছে ভাগ্য
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন রাজ্যের লক্ষাধিক সিভিক ভলান্টিয়ার ও ভিলেজ পুলিশ। চলতি মাসে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যথারীতি ১০ হাজার টাকা বেতন ঢুকলেও, আগামী দিনে তাঁদের কর্মসংস্থান বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই এই অস্থায়ী কর্মীদের মনে ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় ও আতঙ্ক ক্রমশ দানা বাঁধছে।
চুক্তির মারপ্যাঁচে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
পূর্বতন সরকারের আমলে এই কর্মীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই চুক্তিতে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজের মেয়াদ এবং ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস দেওয়া হলেও, একটি বিশেষ ধারা সিভিক ভলান্টিয়ারদের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, সরকার চাইলে যেকোনো সময় এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে পারে। এই আইনি ফাঁকটিই এখন কর্মীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। মাঝবয়সী কর্মীরা নতুন করে অন্য পেশায় যাওয়ার সুযোগ না থাকায় চরম আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক প্রভাব
বর্তমান পুলিশি ব্যবস্থায় সিভিক ভলান্টিয়াররা একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ থানাগুলির দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে এঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ প্রশাসনের একাংশের মতে, নতুন সরকার হয়তো এখনই ঢালাও কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটবে না, কারণ পুলিশ বাহিনীতে পর্যাপ্ত স্থায়ী কর্মীর অভাব রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে সিভিক ভলান্টিয়ারদের বসিয়ে দিলে রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বড়সড় সংকটের মুখে পড়তে পারে। তবে নতুন সরকার নতুন করে আর কোনো সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করবে কি না এবং বর্তমান কর্মীদের স্থায়ীকরণের বিষয়ে কী অবস্থান নেবে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই বিপুল সংখ্যক পরিবারের ভবিষ্যৎ।