হোটেল ব্যবসায়ীর অদম্য সাহসে খতম মোবাইল ছিনতাইবাজদের গ্যাং! মধ্যরাতে সিনেমার কায়দায় চোর ধরল হাওড়া
মধ্যরাতের ফাঁকা রাস্তায় আচমকা হানা দিয়েছিল মোবাইল ছিনতাইবাজেরা। কিন্তু পেশায় হোটেল ব্যবসায়ী সেই প্রৌঢ় যে এভাবে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন, তা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেনি দুষ্কৃতীরা। নিজের উপস্থিত বুদ্ধি ও অসীম সাহসের পরিচয় দিয়ে সিনেমার কায়দায় তাড়া করে একাই দুই ছিনতাইবাজকে ধরে ফেললেন তিনি। আর তাদের সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করল আরও তিনজনকে। হাওড়ার এই ঘটনায় একযোগে ৫ দুষ্কৃতীকে খাঁচায় পুরে বড়সড় সাফল্য পেল হাওড়া থানার পুলিশ।
মধ্যরাতে ছিনতাইয়ের চেষ্টা ও ধস্তাধস্তি
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ মে রাত তিনটে নাগাদ। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন হাওড়ার বাসিন্দা তথা স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী সুশীল সাউ। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তিনি মোবাইলে ফোনে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি মোটরসাইকেলে চড়ে তিন ছিনতাইবাজ তাঁর কানের পাশ থেকে মোবাইলটি এক ঝটকায় টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। আচমকা এই হামলায় ভড়কে না গিয়ে উল্টে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সুশীল বাবু। দুষ্কৃতীদের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ব্যবসায়ীর এমন মারমুখী রূপ দেখে বেগতিক বুঝে মোবাইল ফেলেই চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে ছিনতাইবাজেরা। কিন্তু সুশীল বাবুও দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না, তিনি তখনই পায়ে হেঁটে দুষ্কৃতীদের পিছনে দৌড়াতে শুরু করেন।
ছেলের বাইকে চড়ে ধাওয়া ও পুলিশের সাফল্য
কিছুটা যাওয়ার পর রাস্তায় টহলরত পুলিশের গাড়ি দেখতে পেয়ে সুশীল বাবু দ্রুত সাহায্য চান। এরই মধ্যে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসেন তাঁর দুই ছেলেও। এরপর আর সময় নষ্ট না করে ছেলেদের বাইকের পিছনে বসে দুষ্কৃতীদের ধাওয়া করেন ওই ব্যবসায়ী। কিছুটা এগোতেই ছিনতাইবাজদের নাগাল পেয়ে যান তাঁরা। সিনেমার স্টাইলে সুযোগ বুঝে দুষ্কৃতীদের চলন্ত বাইকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেন সুশীল বাবু ও তাঁর ছেলেরা। ঘটনাস্থল থেকেই দুজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ধৃতদের থানায় নিয়ে গিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে হাওড়া থানার পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই অভিযান চালিয়ে এই চক্রের আরও তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
এলাকায় ক্রমাগত বাড়তে থাকা মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনার নেপথ্যে এই চক্রটিই জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সুশীল বাবুর এই তৎপরতা ও অসমসাহসিকতা শুধু অপরাধ দমনেই সাহায্য করেনি, বরং রাতের শহরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এক বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।