বাংলায় ফিরছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, কারা পাবেন পাকা বাড়ি, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল শুরু হয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হতেই কেন্দ্রের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রাজ্যজুড়ে বাস্তবায়নের তোড়জোড় শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই তালিকায় সাধারণ মানুষের সবথেকে বেশি নজর রয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PMAY) ওপর। বিগত দিনে এই প্রকল্প নিয়ে রাজ্যে নানা জটিলতা থাকলেও, বর্তমান সরকার দরিদ্র ও গৃহহীন পরিবারগুলোর মাথার ওপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করতে এটি সর্বস্তরে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকার বদলের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের গ্রামীণ ও শহরের প্রান্তিক মানুষরা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া যোগ্য পরিবারগুলোর কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই রূপরেখা তৈরি করছে।
কারা পাবেন এই সুবিধা
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মূল লক্ষ্য হলো ‘সবার জন্য বাড়ি’ নিশ্চিত করা। এই প্রকল্পের অধীনে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণী (EWS), নিম্ন-আয়ের গোষ্ঠী (LIG) এবং মধ্যম-আয়ের গোষ্ঠীর (MIG) নাগরিকদের নতুন বাড়ি তৈরি বা সংস্কারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং তাঁর বা পরিবারের কোনো সদস্যের নামে দেশের কোথাও কোনো পাকা বাড়ি থাকা চলবে না।
কারা আবেদনের যোগ্য নন
প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে যোগ্যতার ক্ষেত্রে কিছু কঠোর নিয়ম রয়েছে। পরিবারের বার্ষিক আয় ১৮ লক্ষ টাকার বেশি হলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরি করলে, চার চাকার গাড়ি বা বাইক থাকলে কিংবা ৫০ হাজার টাকার বেশি ঋণের ক্ষমতাসম্পন্ন কিষান ক্রেডিট কার্ড থাকলেও আবেদন বাতিল হবে। পূর্বে কোনো সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকলে তাঁরাও এই যোজনার বাইরে থাকবেন।
আর্থিক সহায়তার পরিমাণ
ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এই প্রকল্পে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। সমতল অঞ্চলের বাসিন্দাদের বাড়ি তৈরির জন্য দুই কিস্তিতে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যার প্রতিটি কিস্তিতে থাকে ৬০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, পাহাড়ি বা দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এই সহায়তার পরিমাণ ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।
আবেদনের সঠিক পদ্ধতি
গ্রামীণ এলাকার ইচ্ছুক প্রার্থীরা তাঁদের স্থানীয় ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) বা গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি আবেদন জানাতে পারবেন। শহরাঞ্চলের বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট পৌরসভায় যোগাযোগ করতে পারেন অথবা সরাসরি অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (pmaymis.gov.in) এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
অনলাইনে আবেদনের জন্য পোর্টালে গিয়ে নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর ‘সিটিজেন অ্যাসেসমেন্ট’ বিভাগে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য, আয়ের বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীরা একটি আইডি পাবেন, যা দিয়ে পরবর্তীতে আবেদনের স্থিতি যাচাই করা সম্ভব হবে।