উত্তরবঙ্গে নিষিদ্ধ তৃণমূলের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে কড়া হুঁশিয়ারি কেএলও-র
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিধানসভা নির্বাচনে নতুন সরকার গঠনের পরপরই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রিয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’ উত্তরবঙ্গের মাটিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন’ (কেএলও)। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় সংগঠনের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
স্লোগান বিতর্ক ও কেএলও-র হুঁশিয়ারি
সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘জয় বাংলা’ মূলত বাংলাদেশের স্লোগান এবং উত্তরবঙ্গ কোনোভাবেই বাংলাদেশের অংশ নয়। ফলে উত্তরের মাটিতে এই স্লোগান আর ব্যবহার করা চলবে না। এর পরিবর্তে সেখানকার স্লোগান হবে ‘জয় আই কামতাপুর’। এই স্লোগান পরিবর্তনের জন্য আগামী ১৫ দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে সংগঠনটি। ভিডিও বার্তায় কড়া সুরে জানানো হয়েছে, একদিকে মুখে ‘জয় বাংলা’ বলা আর অন্য দিকে বিপদে পড়লে হলুদ গামছা গলায় জড়িয়ে নিজেকে ‘রাজবংশী’ দাবি করা আর সহ্য করা হবে না।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিগত সরকারের আমলে বিজেপির ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের পালটা হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি ব্যবহার শুরু করে। তবে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান স্লোগান এবং ২০২০ সালে দেশটির হাইকোর্ট এটিকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব বরাবরই পশ্চিমবঙ্গে এই স্লোগানের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারের সময়ও এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এমনকি খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বাংলাদেশের স্লোগান ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
নির্বাচনের আগে কেএলও প্রধান জীবন সিংয়ের পক্ষ থেকে বিজেপিকে সমর্থনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল এবং উত্তরবঙ্গে বিজেপি নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে সফল হয়েছে। এই রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে কেএলও-র এমন আকস্মিক ও আক্রমণাত্মক ফতোয়া উত্তরবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণ ও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।