সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যের পর নেটপাড়ায় ‘আরশোলা জনতা পার্টি’, যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে মহুয়া-কীর্তির তুমুল কটাক্ষ
ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র— এবং তার সাথে ‘আলস্য’! এক অদ্ভুত ও অভিনব ভাবনাকে ঢাল করে সামাজিক মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করল ‘ককরোচ বা আরশোলা জনতা পার্টি’ (CJP)। এটি কোনো মূলধারার রাজনৈতিক দল নয়, বরং বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও বিচারব্যবস্থার এক বিশেষ পরিস্থিতিকে বিঁধে তৈরি হওয়া একটি তীব্র ব্যঙ্গাত্মক মঞ্চ। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মামলায় করা ‘আরশোলা’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাকে হাতিয়ার করেই এই প্যারোডি দলের জন্ম। আর তাতেই এবার নাম লেখানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে ময়দানে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ।
ডিজিটাল দুনিয়ায় এই ব্যঙ্গাত্মক দল গঠনের মাত্র ২ দিনের মধ্যেই ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ এর সদস্য হতে চেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় আমজনতার পাশাপাশি রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং প্রাক্তন আমলা আশিস যোশীর মতো ব্যক্তিত্বরাও।
‘শাসনব্যবস্থায় হতাশ’ যুবকের মস্তিষ্কপ্রসূত দল, ভাইরাল মহুয়ার টিপ্পনি
এই বিচিত্র সিজেপি (CJP) দলের নেপথ্যে রয়েছেন অভিজিৎ দীপকে নামে এক যুবক, যিনি ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সময় আম আদমি পার্টির (AAP) হয়ে কাজ করেছিলেন। তাঁর মতে, দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার প্রতি যাঁরা চরম হতাশ, তাঁদের এক ছাতার তলায় এনে মনের ক্ষোভ হালকা করতেই এই মজার মঞ্চ। আর সেখানেই এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে মহুয়া মৈত্র তাঁর চেনা ভঙ্গিতে তীব্র তীর্যক টিপ্পনি কেটে লিখেছেন:
“একটি দেশবিরোধী দলের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আমি সিজেপিতে যোগ দিতে চাই।”
তৃণমূল সাংসদের এই মোক্ষম কটাক্ষের জবাবে ‘আরশোলা জনতা পার্টি’-র অফিশিয়াল হ্যান্ডেল থেকে পাল্টা রিটুইট করে লেখা হয়, “যারা ভোট চুরি করে এবং ধর্মীয় উস্কানি ছড়ায়, তারাই হলো আসল দেশবিরোধী। আপনি তো গণতন্ত্রের একজন সৈনিক। আপনাকে আমাদের সিজেপি-তে স্বাগত।”
অন্যদিকে, দলে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা জানতে চেয়ে পোস্ট করেছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা রাজনীতিক কীর্তি আজাদ। তাকে আবার ক্রিকেটীয় মেজাজেই স্বাগত জানিয়ে আরশোলা পার্টি উত্তর দিয়েছে, “আপনার ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ই এই দলে যোগ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট যোগ্যতা।”
দলে যোগ দিতে লাগবে ‘আলস্য’, ইস্তাহারে ৫ দফা অ্যাজেন্ডা
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মুহূর্তে ট্রেন্ডিং তালিকায় শীর্ষে থাকা ‘আরশোলা জনতা পার্টি’-তে যোগ দেওয়ার জন্য মূলত চারটি শর্ত রাখা হয়েছে। সিজেপি জানিয়েছে, যাঁরা নিজেদের বেকার ভাবেন, চরম অলস, সারাদিন অনলাইন দুনিয়ায় পড়ে থাকেন এবং নিজেদের কর্মস্থলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী— তাঁরাই এই দলের আসল সম্পদ ও সদস্য হওয়ার যোগ্য।
ইতিমধ্যেই ডিজিটাল মাধ্যমে এই দলের পক্ষ থেকে একটি ৫ দফা ইস্তাহার বা অ্যাজেন্ডাও প্রকাশ করা হয়েছে, যা নিয়ে আমজনতার মধ্যে হাসির রোল উঠেছে। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, স্রেফ মজা বা রসিকতা নয়, এই আরশোলা পার্টির বিপুল জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুবসমাজের একাংশের এক নীরব ও অভিনব প্রতিবাদ।