‘নিজেকে মা সারদা, শ্রী চৈতন্য ভাবতেন!’ বুলডোজার রাজনীতি নিয়ে মমতার কান্নায় পাল্টা তীব্র তোপ অগ্নিমিত্রার
রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের উচ্ছেদ অভিযান ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ নিয়ে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পোস্টের পাল্টা এক হাত নিলেন রাজ্যের নতুন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। সোমবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অগ্নিমিত্রা পল স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বিগত ১৫ বছর ধরে বিপুল জনসমর্থন পেয়েও যাঁরা কেবল ক্ষমতা ভোগ আর টাকা কামানোর রাজনীতি করেছেন, তাঁদের মুখে রবীন্দ্রনাথ-নেতাজির কথা মানায় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “উনি নিজেকে মা সারদা মনে করতেন, শ্রী চৈতন্যদেব মনে করতেন। কিন্তু বাংলার মানুষ এবার ওঁকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে উনি অপরিহার্য নন। হয় কাজ করো, না হলে ভ্যানিশ হয়ে যাও— মানুষ ওঁকে এবার পুরোপুরি ভ্যানিশ করে দিয়েছে।”
বুলডোজার রাজনীতি নিয়ে সরব মমতা, মনে করালেন রবীন্দ্রনাথ-নেতাজিকে
সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে পৌরসভা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেআইনি জবরদখল ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে যে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে, তা নিয়ে সোচ্চার হন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকারের এই প্রশাসনিক তৎপরতাকে ‘বুলডোজার রাজনীতি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন:
“বাড়িঘর থেকে শুরু করে হকারদের স্টল, রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের চরম মাশুল গুনতে হচ্ছে গরিব মানুষকে। বাংলা কখনও বুলডোজার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। রবীন্দ্রনাথ এবং নেতাজির এই পুণ্যভূমিতে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে, বলপ্রয়োগ করে বা উচ্ছেদ অভিযানের নামে শাসন করা যায় না।”
১৫ বছর তো পেয়েছিলেন, পুকুর বুঁজানো নিয়ে মমতার ক্যাবিনেটকে নিশানা অগ্নিমিত্রার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জনদরদী সওয়ালকে স্রেফ ‘মানুষকে বোকা বানানোর কৌশল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পল। তিনি পাল্ট প্রশ্ন তোলেন, ২০১১ সালে এত বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর ১৫ বছরে কেন হকার পুনর্বাসন বা সঠিক নগরোন্নয়ন করা হলো না?
কলকাতার এক বিখ্যাত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থার (ওয়াও মোমো) কারখানার জন্য নিয়ম বহির্ভূতভাবে পুকুর বুঁজিয়ে ফেলার প্রসঙ্গ টেনে অগ্নিমিত্রা তৎকালীন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকেও নিশানা করেন। তিনি বলেন, “ওয়াও মোমোর কারখানার জন্য যখন পুকুর বুঁজিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন ওঁর পুরমন্ত্রী দায় এড়াতে বলেছিলেন যে ওটা নাকি ওঁদের সময়ে হয়নি, বাম আমলে হয়েছিল। তর্কের খাতিরে যদি সিপিপিএম আমলেও হয়ে থাকে, তাহলে আপনারা তো ক্ষমতায় ১৫ বছর পেয়েছিলেন, কেন ব্যবস্থা নেননি? আপনারা কি জানেন না যে একটা পুকুর বুঁজিয়ে দিলে আইন অনুযায়ী আরও একটা পুকুর খনন করতে হয়? সেই কাজ আপনারা করেননি কেন?”
জনগণের রায়ে অহংকার চূর্ণ হয়েছে, বার্তা নতুন মন্ত্রীর
অগ্নিমিত্রা পলের দাবি, বিগত সরকারের আমলে উন্নয়ন বলতে কিছুই হয়নি, সাধারণ মানুষকে কেবল উপেক্ষাই করা হয়েছে। আর সেই কারণেই বাংলার মানুষ ভোটবাক্সে এর যোগ্য জবাব দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ বা নেতাজির আদর্শের দোহাই দিয়ে এখন আর পার পাওয়া যাবে না। নতুন সরকারের স্পষ্ট বার্তা, কোনো রকম বেআইনি সিন্ডিকেট বা জলাশয় ভরাট বরদাস্ত করা হবে না এবং অতীতে হওয়া সমস্ত দুর্নীতির খতিয়ান ধরে ধাপে ধাপে কড়া আইনি পদক্ষেপ জারি রাখবে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা।