অভিষেকের ডানা ছাঁটলেন মমতা, নেপথ্যে কি আইনি বিপদের আশঙ্কা?

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে রদবদলের হাওয়া! সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহাল রাখলেও, তাঁর একচ্ছত্র ক্ষমতায় রাশ টানলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডেরেক ও ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই রদবদলকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার শেষ নেই।

কেন এই সাংগঠনিক পরিবর্তন?
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। বিধায়ক থেকে নিচুতলার কর্মী—দলের একটি বড় অংশ হারের দায় সরাসরি তাঁর ওপর চাপিয়েছেন। এই তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে এবং সাংগঠনিক রাশ নিজের হাতে রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুই বর্ষীয়ান সাংসদকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

গ্রেফতারির ছায়া কি রদবদলের কারণ?
রদবদলের নেপথ্যে আইনি আশঙ্কার বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। একের পর এক দুর্নীতি মামলার তদন্তের জালে জড়িয়ে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ:

  • নিয়োগ দুর্নীতি: বাড়িতে ইডি-র নোটিস।
  • কয়লা পাচার মামলা: দফায় দফায় তলব।
  • বাসভবন বিতর্ক: কলকাতা পুরনিগমের তরফে নির্মাণের বৈধতা নিয়ে আইনি নোটিস।

তদন্তকারী সংস্থার চাপের মুখে অভিষেক যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন—দলের অন্দরে এই আশঙ্কাই প্রবল। নেত্রী কি তবে অভিষেকের অবর্তমানে দলের কাজ সচল রাখতে আগাম ‘সেফটি নেট’ তৈরি করে রাখলেন? ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভারসাম্য বজায় রাখার এই নতুন খেলা এখন রাজ্য রাজনীতির মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

এই পদক্ষেপ কি শাসকদলের অন্দরের বিদ্রোহ প্রশমিত করবে, নাকি ফাটল আরও বড় করবে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *